
সাধারণত খুব ছোট ছোট জিনিস দিয়েই এর শুরু হয়। মিটিংয়ের পর আপনারা একসঙ্গে কফি খেতে যান। লাঞ্চের সময় সে আপনার জন্য একটি সিট ধরে রাখে। চাপের দিনগুলোতে আপনারা একে অপরের ভরসার মানুষ হয়ে ওঠেন। ডেডলাইন, একসঙ্গে করা রসিকতা, এবং এটাসেটা হাজারটা কথার মাঝে কোথাও না কোথাও নীরবে অনুভূতির জন্ম হয়।
কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এটি বাইরের কারো সাথে ডেটিং করার মতো নয়, অফিসের প্রেমের ক্ষেত্রে বাড়তি দর্শক থাকে। আপনার সহকর্মীরা অনেক কিছু খেয়াল করে। অফিসের গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর যদি সম্পর্ক খারাপও হয়ে যায়, তারপরও প্রতিটি সকালে একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়।
এর মানে এই নয় যে আপনার কখনোই কোনো সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়। এর মানে শুধু এই যে, আপনাকে এ ব্যাপারে আরও বিচক্ষণ হতে হবে। কিছু বিষয়ে খেয়াল করে চললে তা আপনার সম্পর্ক এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার সুনাম দুটোই বাঁচাতে পারে।
শুরুতেই পুরো অফিসকে জানাবেন না
আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে খবরটি শেয়ার করার লোভ হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি উত্তেজিত থাকেন। তবে এই প্রলোভন থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। অফিসের কথাবার্তা খুব অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সম্পর্কটি যদি নতুন হয়, তবে এটিকে কর্মক্ষেত্রের বাইরে বিকশিত হতে দিন, যাতে তা সবার মধ্যাহ্নভোজের আলোচনার বিষয় হয়ে না ওঠে। আপনার ব্যক্তিগত জীবনে যত কম লোক জড়িত থাকবে, পরবর্তীতে আপনাকে তত কম মতামতের সম্মুখীন হতে হবে।
ঝগড়া অফিসের দরজার বাইরেই রাখুন
আগের রাতে কি কোনো মতবিরোধ হয়েছিল? আপনার সহকর্মীদের তা জানতে দেওয়া উচিত হবে না। মিটিংয়ের সময় একে অপরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া, অস্বাভাবিকভাবে শীতল আচরণ করা, বা সহকর্মীদের সামনে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা- এগুলো সবার জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। কর্মক্ষেত্র এমন একটি জায়গা যেখানে ব্যক্তিগত আবেগকে পেছনে রাখা প্রয়োজন।
সেই জুটি হয়ে উঠবেন না যাদের নিয়ে সবাই কথা বলে
প্রতিটি অফিসেই এমন একজন থাকে। সেই জুটি যারা সবসময় একসঙ্গে বসে থাকে, লম্বা কফি বিরতির জন্য উধাও হয়ে যায়, একে অপরের কথা সম্পূর্ণ করে দেয়, বা প্রতিটি টিম আউটকে ডেটে পরিণত করে। এটা আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু অন্যদের জন্য এটি মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আলাদা বন্ধুত্ব বজায় রাখা এবং দলের বাকিদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মেলামেশা করলে তা সবকিছুতে ভারসাম্য রাখবে।
দুজনের মধ্যে একজনের ক্ষমতা বেশি থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক হন
যদি দুজনের মধ্যে একজন ছুটির আবেদন অনুমোদন করেন, প্রকল্প বরাদ্দ করেন বা কাজের মূল্যায়ন লেখেন, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। এমনকী কোনো পক্ষপাতিত্ব না থাকলেও অন্যরা তা আছে বলে ধরে নিতে পারে। আপনার কোম্পানিতে সম্পর্ক রিপোর্ট করা বা প্রকাশ করার বিষয়ে যদি কোনো নীতিমালা থাকে, তবে সেগুলো মেনে চলুন। এটি দীর্ঘমেয়াদে আপনাদের দুজনকেই সুরক্ষিত রাখে।
সম্পর্ককে পুরো কর্মদিবসের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবেন না
একসঙ্গে কাজ করেন বলেই যে প্রতিটি অবসর মুহূর্ত একসঙ্গে কাটাতে হবে, এমনটা নয়। মাঝে মাঝে ভিন্ন সহকর্মীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। আলাদাভাবে মিটিংয়ে যোগ দিন। একে অপরকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য জায়গা দিন। মজার ব্যাপার হলো, অফিসের সময়ে কিছুটা দূরত্ব কাজের বাইরে সম্পর্ককে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলে। মেসেজ পাঠানোর আগে ভাবুন। ভুলবশত অফিসের গ্রুপ চ্যাটে একটি ফ্লার্টিং মেসেজ চলে যাওয়া মানে এক নিমিষেই আপনার ক্যারিয়ারে বড় দাগ পড়ে যাওয়া হতে পারে।