
রাজশাহীতে দিনের আলো হিজড়া সংঘের আয়োজনে রিনিউড উইমেন ভয়েস এন্ড লিডারশীপ বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও রেফারেল নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগরীর রানীনগরস্থ একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের হলরুমে মানুষের জন্য ফাইন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক ইসরাত জাহান, বিইউপি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, আপস এর নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার পল্টু, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফ সুমন, রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি কল্পনা রায়। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যগণ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিনিউড উইমেন ভয়েস এন্ড লিডারশীপ বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার আতিয়া তানসিমার সঞ্চালনায় প্রকল্প ও সংস্থার কার্যক্রম সর্ম্পকে তুলে ধরেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের সহ-সভাপতি পলি। এরপর শুরু হয় উন্মুক্ত আলোচনা। আলোচনায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে হিজড়া সুরক্ষা আইন পাশ করতে হবে। সেইসাথে আইনটি প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, হিজড়া/ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এখনও ন্যায়বিচার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনগত সহায়তা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, সামাজিক কলঙ্ক এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতির কারণে এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
তারা আরো বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করতে হলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ তাদেরকে উদ্যোক্ততা প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও তারা বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিবারে থাকার ব্যবস্থাসহ তাদের পিতা-মাতার সম্পদে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে সরকারী চাকরীতে অন্তভর্ূূক্তির জন্য কোটা বৃদ্ধিসহ সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।
এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিগণ বলেন, হিজড়া জনগণের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা বুঝে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করবেন। সেইসাথে অংশগ্রহণকারীরা হিজড়া/ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন ও জেন্ডার-সংবেদনশীল সেবা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শেষে সভাপতি উপুস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সকলকে সুদৃষ্টি প্রদানসহ সহাভুতি প্রদান করে তাদেরকে আঘাত নয় ভালবেশে কর্মের ব্যবস্থা এবং পরিবারের তাদেরকে গ্রহন করার আহ্বান জানান। সেইসাথে যারা বয়স্ক হয়ে গেছেন তাদেরকে সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য এবং সংলাপ শেষ করেন।