Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০১ আগস্ট ২০২৬
১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

উদ্দেশ্য প্রণীতভাবে "তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদে খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা

প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): Attempt to tarnish the image of the Food Department with misleading news without verifying the facts

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি অনলাইনে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে "মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর" বলে দাবি করেছেন খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে যাচাই না করে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং বর্তমান সরকার ও খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রণীত নীতিমালা ও বিনির্দেশে পরিচালিত হয়। প্রতি মৌসুমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হয় এবং কেবল চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকেই চাল সংগ্রহের বিধান রয়েছে। চুক্তিবদ্ধ মিলারের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের সুযোগ বা আইনগত এখতিয়ার নেই।


সূত্রটি আরও জানায়, খাদ্যগুদাম ও গুদাম কর্মকতার দায়িত্ব হলো সরবরাহকৃত চালের গুণগত মান নির্ধারিত বিনির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা করে গ্রহণ করা। কোনো চুক্তিবদ্ধ মিলারের চাতাল সচল বা অচল রয়েছে কি না, তা তদারকি করা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।


খাদ্য বিভাগের দাবি, চলতি মৌসুমে বদলগাছী উপজেলার সরকারি চাল সংগ্রহ কার্যক্রম গত ২৮ জুন শেষ হয়েছে। এরপর বর্ষাকালে অধিকাংশ মিলে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চাতালে ঘাস জন্মানো স্বাভাবিক। সেই সময়ের চিত্র দেখিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।


চুক্তিবদ্ধ মিলার ভাই ভাই চাউল কলের মালিক আতাউর রহমান বলেন, কয়েকজন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন আমি সরকারের কাছে চাল সরবরাহ করেছি কি না। আমি বলেছি, করেছি। অন্য কে চাল দিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। আপনারা যাচাই করে দেখেন।


বদলগাছী উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১৬টি মিলারের বাইরে চাল সরবরাহের সুযোগ নেই। তাই তথ্য যাচাই ছাড়া ভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশ করলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।


বদলগাছী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, সংবাদে দাবি করা হয়েছে তিনি নাকি পছন্দের মিলারের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করেছেন। তবে বাস্তবে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১৬টি মিলারের কাছ থেকেই চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। চুক্তিবদ্ধ মিলারের বাইরে অন্য কারও কাছ থেকে চাল গ্রহণের কোনো সুযোগ বা আইনগত এখতিয়ার তার নেই।


তিনি আরও বলেন, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার দায়িত্ব বিনির্দেশ মোতাবেক চালের গুণগত মান পরীক্ষা করে গ্রহণ করা। কোনো মিলারের চাতাল সচল বা অচল রয়েছে কি না, তা তদারকি করা খাদ্যগুদামের দায়িত্ব নয়।


আতিকুর রহমান জানান, চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ২৮ জুন শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার সঙ্গে ৯ জুনের দিকে কথা বলেছিলেন। অথচ সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর বর্ষাকালে মিলের বর্তমান চিত্র দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনারা উদ্দেশ্য প্রনীতভাবে খাদ্য বিভাগ ও আমার সুনাম নষ্ট করার জন্যই এমনটি করেছে। 


উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু অনলাইন সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃত তথ্য ও সরকারি বিধিমালা যাচাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ করলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


তিনি আরও বলেন, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি বা পছন্দের মিলার নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। সব কার্যক্রমই নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তিনি তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য ও সরকারি বিধিমালা যাচাই করার আহ্বান জানান।


এদিকে, সম্প্রতি সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দৈনিক ঘোষণার বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি এনামুল কবির এনাম বলেন, আমি আমার প্রতিবেদনে গুদাম কর্মকর্তার পছন্দের ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট মিলারের কাছ থেকে চাল কেনার বিষয়টি লিখিনি। আমি কৃষকের নামে ধান সংগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেছি। যেসব কৃষকের নামে ধান সংগ্রহ দেখানো হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে আমাকে জানিয়েছেন।


বর্তমানে কোনো কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হলে ওই কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রয়োজন হয়। কারণ, ধানের মূল্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট কৃষকের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়।


মিঠাপুর ইউনিয়নের কান্দা গ্রামের বিকুল হোসেন (পিতা: জালাল উদ্দীন)সহ কয়েকজনের নাম তালিকায় দেখতে পেয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। তারা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন। এছাড়া এলাকার কৃষকদের ধান সংগ্রহ না করে বাইরের এলাকার ধান নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য জানতে আমি প্রায় ২০–২৫ বার গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তিনি প্রতিবারই বলেছেন, ‘আমি জানি না।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news