Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৪০ অপরাহ্ন

রাজশাহীর পুঠিয়ায় দেশের বৃহত্তম শিবলিঙ্গ ও বোলবম অনুষ্ঠান

আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী:- ০৭ আগস্ট ২০২৬

​বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বড় শিব মন্দির বা ভুবনেশ্বর মন্দির। পুঠিয়া রাজবাড়ী চত্বরের দক্ষিণ দিকে শিবসাগর দীঘির পাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরটিতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ও ভারী কালো পাথরের শিবলিঙ্গ।


​আগামী ১৭ আগস্ট দেশের সর্ববৃহৎ এই কালো পাথরের শিবলিঙ্গটিতে জল ঢেলে বিশেষ বোলবম অনুষ্ঠান উদযাপিত হতে চলেছে। এই উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে পুঠিয়া সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও শিবভক্তদের সমাগম ঘটবে।

শিবসাগর দীঘির পবিত্র জলে স্নান সেরে ভক্তরা ঐতিহ্যবাহী এই শিবলিঙ্গে জল ও বেলপাতা অর্পণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করবেন। ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাজসাজ রব বিরাজ করছে।


​পুঠিয়া রাজবংশের রাজা জগৎ নারায়ণ রায়ের পত্নী রাণী ভুবনময়ী দেবী ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে এই মন্দির ও শিবলিঙ্গটি স্থাপন করেন।শিবসাগর দীঘির পাড়ে প্রায় চার মিটার উঁচু বেদির ওপর সুন্দর ও নান্দনিক পঞ্চরত্ন স্থাপত্যশৈলীতে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে।

মন্দিরটির মূল আকর্ষণ হলো ভেতরের শিবলিঙ্গটি, যা একটিমাত্র আস্ত কালো ব্যাসল্ট বা কষ্টিপাথর দিয়ে তৈরি। এর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গৌরীপাদপীঠ বা গৌরীপট্ট যুক্ত রয়েছে।মূল গর্ভগৃহের ভেতরে অবস্থিত এই শিবলিঙ্গের উচ্চতা প্রায় ১.৮২ মিটার (৬ ফুট) এবং এর পরিধি বা ব্যাস প্রায় ৩.১৮ মিটার (১০.৪ ফুট)। আকার ও ওজনের দিক থেকে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও ভারী শিবলিঙ্গ।


​​১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পুঠিয়ার এই ঐতিহাসিক মন্দিরটিও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়। হানাদার বাহিনী এই বিশাল শিবলিঙ্গটিকে স্থানচ্যুত বা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু পাথরটির বিশালতা ও অতিরিক্ত ওজনের কারণে তারা এটিকে একটুও সরাতে বা কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই অনন্য ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন।


রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বড় শিব মন্দির বা ভুবনেশ্বর মন্দির।