রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের এক প্রদর্শকের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ, আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করার অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।
১৪ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রদর্শক ফায়েক আলী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই রূঢ় ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি হিজাব ও পর্দা নিয়ে কটূক্তি করেন এবং শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আচরণে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেন, অস্বাভাবিক আচরণ করেন, প্রতিষ্ঠানে গিটার নিয়ে অবস্থান করেন এবং শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। এছাড়া স্থানীয় এক ব্যক্তি, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, দাবি করেন যে, বিগত সরকারের আমলে ফায়েক আলী গোদাগাড়ী পৌর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় একটি কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়া ও কেন্দ্র দখলের ঘটনায় তাকে দেখা গেছে। তবে এ অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযুক্ত প্রদর্শক ফায়েক আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী নওরিন বলেন, "খাতায় স্বাক্ষর নিতে গেলে স্যার আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে চরিত্রহীন ও কুলাঙ্গার বলে গালিগালাজ করেন। তিনি আমাদের হিজাব নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন।"
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।