ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠ ও কোমর শক্ত হয়ে আছে, নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে, এমন সমস্যা অনেকেই সাধারণ কোমরব্যথা বা স্পন্ডিলাইটিস ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সকালে এমন আড়ষ্টতা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে ব্যথা বিশ্রামের সময় বাড়লে এবং দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে এটি অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস মেরুদণ্ড ও কোমর-নিতম্বের সংযোগস্থলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে।
এটি সাধারণ হাড় বা পেশির ক্ষয়জনিত সমস্যা নয় বরং এক ধরনের প্রদাহজনিত অটোইমিউন রোগ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলো ধীরে ধীরে পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে।
এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক নমনীয়তা কমে যায় এবং পিঠ ও কোমর শক্ত হয়ে যেতে পারে।
কম বয়সেই দেখা দিতে পারে
এই রোগের লক্ষণ সাধারণত তরুণ বয়সে শুরু হয়।
বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করা, ঝুঁকে মোবাইল বা টিভি দেখা কিংবা দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারে পিঠ-কোমরের সমস্যা বাড়তে পারে। তবে অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস অটোইমিউন রোগ হওয়ায় শুধু জীবনযাপনের ধরনকে এর একমাত্র কারণ বলা যায় না।
রোগটির সঙ্গে জেনেটিক সম্পর্কও রয়েছে। বিশেষ করে HLA-B27 নামের একটি জিনের সঙ্গে অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শরীরে এই জিন থাকলেই যে রোগটি হবে, এমন নয়।
কোন লক্ষণগুলোতে সতর্ক হবেন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত পিঠ ও কোমর শক্ত বা আড়ষ্ট হয়ে থাকা এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। কয়েক মিনিটের বদলে যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যা থাকে এবং বিশ্রামের পর ব্যথা আরও বাড়ে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এর সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে-
* কোমর, পিঠ ও নিতম্বের ওপরের অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
* শরীরের নিচের অংশে শক্তভাব বা খিঁচুনির অনুভূতি
* হাঁটাচলা বা ওঠাবসায় অসুবিধা
* সামনে ঝুঁকতে সমস্যা
* গোড়ালিতে ব্যথা
* বুকে চাপ বা ব্যথা
* চোখ লাল হওয়া, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
* কিছু ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা
সময় গড়ানোর সঙ্গে রোগের তীব্রতা বাড়লে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন ও নড়াচড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এমনকি গুরুতর অবস্থায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে।
কেন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি
অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ কোমরব্যথার মতো মনে হয়। ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রদাহ মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই কম বয়সে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী কোমর বা পিঠের ব্যথা, বিশেষ করে সকালে দীর্ঘ সময় আড়ষ্টতা এবং বিশ্রামে ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে সাধারণ ব্যথার ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক নড়াচড়া যতটা সম্ভব বজায় রাখা যায়। তাই প্রতিদিন সকালে পিঠ-কোমর শক্ত হয়ে যাওয়া যদি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়, সেটিকে বয়স বা সাধারণ শারীরিক ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।