Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১০ আগস্ট ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

মানুষকে সুখী করতে পারে না যে ৪ জিনিস

অনলাইন ডেস্ক 4 things that can't make people happy

জীবনে প্রায় সব জায়গায় সুখ খুঁজে বেড়াই আমরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা যে জায়গাগুলোতে সুখের সন্ধান করছি, সেগুলো কি সত্যিই সুখ পাওয়ার সঠিক জায়গা? নাকি এমন কাজে সময় ও শ্রম ব্যয় করছি, যার কোনো ফলই নেই?


চলুন দেখে নেওয়া যাক, সাধারণত কোন কোন জিনিসের মধ্যে আমরা সুখ খুঁজে পাওয়ার কথা ভাবি।


টাকা


টাকা কি সুখ এনে দেয়? অবশ্যই দেয়। বেতন হাতে পেলে কার না ভালো লাগে? অফিসের বস যখন বেতন বাড়ানোর কথা জানান, তখন কে না খুশি হয়! ঈদের কেনাকাটার জন্য খালা বা ফুফু কিছু টাকা দিলে আমাদেরও ভালো লাগে। তবে আসল প্রশ্ন হলো, টাকা কি দীর্ঘস্থায়ী সুখ এনে দেয়? সেই সুখ কতক্ষণ স্থায়ী হয়?


এ বিষয়ে একটি বেশ আকর্ষণীয় গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় মনোবিজ্ঞানীরা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত লটারি জেতা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেন। তারা দেখতে পান, পুরস্কারের টাকা পাওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের সুখের মাত্রা সাধারণ মানুষের তুলনায় আর বেশি ছিল না।


বরং লটারি জেতার আগে যেসব কাজ তারা উপভোগ করতেন, যেমন টেলিভিশন দেখা বা দুপুরের খাবার খেতে বাইরে যাওয়া—এসব কাজ থেকেও তারা আগের তুলনায় কম আনন্দ পেতে শুরু করেন।


বেতন বাড়লে অল্প সময়ের জন্য আমাদের আনন্দ বাড়ে। কিন্তু কিছুদিন পর আমরা সেই বাড়তি আয়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাই এবং আবার পরবর্তী বেতন বৃদ্ধির অপেক্ষায় থাকি।


রাসুল (সা.) বলেছেন, আদমসন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে সে তার সঙ্গে তৃতীয় আরেকটি উপত্যকা পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া কোনো কিছুই তার পেট ভরাবে না। আর যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। (ইবনে মাজাহ)


বস্তুগত স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসিতা


অর্ধশতাব্দী আগে মানুষের জীবন কেমন ছিল, একটু ভাবুন। আপনি যে দেশেই থাকুন না কেন, অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে দেখতে পাবেন, তখনকার মানুষের তুলনায় আমরা এখন অনেক বেশি বিলাসিতা ভোগ করছি।


আমাদের ঘরে গরম, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা আছে, অনেকের শোবার ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত বাথরুম রয়েছে, এলইডি টেলিভিশনে শত শত চ্যানেলের মধ্য থেকে পছন্দের অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ আছে, দিনের বেশির ভাগ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে—এমন আরও কত কী!


আজ যেসব জিনিসকে আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নিই—যেমন সিলিং ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ কিংবা ওয়াশিং মেশিন—অতীতে এগুলো পাওয়ার জন্য মানুষ হয়তো মুখিয়ে থাকতো। কিন্তু এসব সুবিধা পাওয়ার পর আমরা কি অতীতের মানুষের তুলনায় বেশি সুখী হয়েছি?


বরং মানুষ দিন দিন কম সুখী হচ্ছে। তাই বস্তুবাদ সুখ এনে দেয় না; বরং বস্তুবাদ অসুখী হওয়ার একটি শক্তিশালী পূর্বাভাস।


এর একটি কারণ হলো, আমরা যখন পরবর্তী আইফোন, বুলেট ব্লেন্ডার কিংবা এ ধরনের নানা জিনিস কেনার পেছনে ছুটতে থাকি, তখন প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারে—এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে আমাদের মনোযোগ সরে যায়।


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছন, পার্থিব সম্পদ বাড়ানোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখে, যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছে যাও। (সুরা আত-তাকাসুর, আয়াত : ১-২)


সৌন্দর্য


টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনে আমরা দেখি, কোনো মেয়ের মুখে ব্রণ বা ত্বকের কালচে ভাব নিয়ে সে খুব মন খারাপ করে আছে। এরপর তাকে একটি জাদুকরি ক্রিম দেওয়া হয় এবং মুহূর্তেই সে আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত এমন একটি ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে—আপনি যত বেশি সুন্দর বা সুদর্শন হবেন, তত বেশি সুখী হবেন।


আমাদের এই দুর্বলতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল একটি শিল্প। বাজারে এমন নানা পণ্য রয়েছে, যেগুলো দাবি করে আপনাকে আরও ফর্সা, রোগা, মোটা, মসৃণ, কালো চুলের, হালকা চুলের, সোজা চুলের কিংবা কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী করে তুলবে। কিন্তু সৌন্দর্য কি সত্যিই আমাদের প্রকৃত সুখ এনে দেয়?


বিয়ে


বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর থেকেই আমরা জীবনসঙ্গী নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। মনে মনে একটি ছবি আঁকি—কীভাবে তার সঙ্গে দেখা হবে, কীভাবে বিয়ে হবে এবং এরপর সুখে-শান্তিতে জীবন কাটবে।


আমরা বিয়ের দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। অনেক সময় হয়তো প্রত্যাশাটাও একটু বেশি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যখন বিয়ে হয় এবং আমরা বুঝতে শুরু করি, ছোটবেলার রূপকথার গল্পে পড়ার মতো বিয়ের পরের জীবন সবসময় সুখের হয় না, তখন আমাদের সুখের বুদবুদ ফেটে যায়। আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে পড়ে যাই, যেখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে চাই।


আমাদের চারপাশে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা দেখলেই বিষয়টি বোঝা যায়। বিয়ে কোনো সুখের প্যাকেজ নয়। এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিস্থিতি, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং একেবারে নতুন জীবন। এই সম্পর্ককে সফল করতে অনেক সময়, ধৈর্য ও পরিশ্রম প্রয়োজন।


তবে বিয়ের আগেই যদি আমাদের মানসিক প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা সঠিক থাকে, তাহলে বিয়ের পর সত্যিকার অর্থেই সুখী দাম্পত্য জীবন অর্জন করা সম্ভব।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news