Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
১০ আগস্ট ২০২৬
০৮:১৭ অপরাহ্ন

বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে প্রতারণা করে জমি লিখে নেবার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

জেসিকা শেখ Allegation of fraudulently taking land from elderly mother

রাজশাহী নগরীর হেঁতেম খা বড় মসজিদ এলাকায় বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে প্রতারণা করে কৌশলে জমি লিখে নেবার অভিযোগ উঠেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বাড়ির বড় ছেলে হুমায়ন কবির সন্ধি উক্ত জমির খাজনা দিতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি চোখে পরে। এই প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত এমরান কবীর রোকন, মুক্তা ও ছোট বোনের স্বামী হাবিব খান বড় ভাই সন্ধিকে নোংড়া ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখি আচরণ করে। এবিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি ধামকি দেয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী সন্ধি। ভুক্তভোগী কাজী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির সন্ধি জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে আরএমপির বোয়ালিয়া থানায় গত ২৫-৭-২০২৬ ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, বাদীর ভাই এমরান কবির রোকন (৪৮), রানী বাজার এলাকার হাবিব খান (৬০) ও তার ছেলে হিমেল সহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জন। সন্ধি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার কারনে তার স্ত্রী মমতাজ কবীর গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সন্ধির বৃদ্ধা মা রওশন আরা বেগম (৮৪) ও স্ত্রী ছাড়াও অন্যান্য ভাইবোন। রওশনা আরা বেগম বয়সের ভারে ঠিক মতো কথা বলতে পারেননা।


লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি মৌখিকভাবে তারা জানান, এই পরিবারের সম্পত্তির ভাগীদার ও অংশীদার ছিলেন নয় ভাই বোন। সেজো ছেলে বাবরের মৃত্যুর পর বাবা-মার সম্পত্তির অংশীদার হন আট ভাই-বোন। ১৯৯০ সালে পরিবারের কর্তা কাজি জাহাঙ্গীর হোসেন (বাবা) অসুস্থ হয়ে উপার্জন ক্ষমতা হারায়। বাবার মুত্যুর আগে থেকেই পরিবারের বড় ছেলে সন্ধি ঠিকাদারি কাজ করেও উপার্জন করতো। অসুস্থ বাবার হার্টের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বড় ছেেেল সন্ধিই বহন করেছে। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর  সময় ছোট ছোট ভাই বোন, মা ও পুরো পরিবারের দায়িত্বভার বর্তায় বড় ভাই সন্ধির উপর। পরিবারের সেজো ছেলে বাবর ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হলে তার যাতীয় চিকিৎসা খরচ (প্রায় ১১ থেকে ১২ লক্ষ টাকা) সন্ধি নিজেই বহন করেছেন। প্রায় ১২ বছর পুরো সংসার নিজ দায়িত্বে বড় ভাই সন্ধি একাই পরিচালনা করেছে। বড় ভাইয়ের এমন উদাসিনতা ও মহত্বে অভিভূত হয়ে সেজো ভাই বাবর মৃত্যুর আগে তার অংশের মাটি ও অন্যান্য সম্পত্তি বড় ভাই সন্ধিকে মৌখিকভাবে দান করে গেছেন। যেটার স্বাক্ষী অন্যান্য ভাই বোন ও আত্মীয় স্বজনরা অবগত আছেন। বাবা মায়ের স্থায়ী সম্পত্তির মধ্যে রাজশাহী নগরীর হেঁতেম খা এলাকায় তিন কাঁঠা বারো ছটাক ভিটে মাটি ও ঈশ্বরদীতে ধানী জমি ছিল সাড়ে সাত বিঘার মতো। বাবার মৃত্যুর কয়েক বছর পরে সন্ধির তিন ভাই ও তিন বোন মিলে ঈশ্বরদীতে থাকা পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়। সেখানে সন্ধিকে কোন অংশই ধেয়া হয়নি। শহরের ৩ কাঠা বারো ছটাকের মধ্যে মাত্র ১২ ছটাক মাটিতে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে ছোট্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চেম্বার নিজ খরচে নির্মাণ করে সন্ধি সেখান থেকেই ব্যবসা বাণিজ্য করতো। সপ্তাহ দুয়েক আগে পৈত্রিক সম্পত্তির ভাজনা দিতে গেলে এ্ বিারো ছটাক জমি নিয়ে নতুন তথ্য বেড়িয়ে আসে। সন্ধি জানতে পারেন, তার এই ছোট্ট চেম্বারটি তার ছোট ভাই এমরান কবির রোকন নিজ নামে লিখে নিয়েছেন।


পরবর্র্তীতে সন্ধি ও অন্যান্য ভাই বোন তাদের মায়ের কাছে  জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ছেলে মেয়েকেই শহরের জমি তিনি লিখে দেননি। বিষয়টি হয়তো প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কৌশলে দলিল করে নেয়া হয়েছে। এই প্রত্যারণার বিষয় নিয়ে সন্ধি অভিযুক্তদের কাছে প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দেয়। এখনো নিয়মিতভাবে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পরিবারের ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে বাড়ি ও সন্ধির ঠিকাদারি চেম্বারের আশপাশ দিয়ে মাঝেমধ্যেই মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ সন্ধির পরিবারের। ভাই-বোন ও বোন জামাই কর্তৃক প্রত্যারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া সম্পত্তির দলিলটি বাতিলের জন্য সম্পত্তির মূল মালিক ও আট সন্তানের জননী রওশন আরা বেগম (৮৪) আদালতে একটি মামলা করবেন বলে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জানান তারা।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news