ছোট পর্দার জনপ্রিয় জুটি খায়রুল বাশার ও সাদিয়া আয়মানকে ঘিরে একসময় অনুরাগীদের কৌতুহলের শেষ ছিল না। পর্দায় যেমন তাদের রসায়ন দর্শক হৃদয়ে দোলা দিত, তেমনই পর্দার বাইরেও দুজনের প্রেমের গুঞ্জন ছিল বিনোদনপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রে। তবে দীর্ঘ দিন ধরেই একফ্রেমে দেখা যায় না জনপ্রিয় এই জুটিকে। কেন তারা দূরত্ব বজায় রাখছেন এবং তাদের সম্পর্কের আসল সমীকরণটাই বা কী ছিল তা নিয়ে এক পডকাস্টে খোলামেলা কথা বললেন খায়রুল বাসার।
সম্পর্কের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বাসার বলেন, ‘আমাদের কাজই হয় না প্রায় তিন বছর যাবত। তারপরও ওই (সাদিয়া আয়মান) নামটা আসে বারবার। তখন চাইতাম যে এটাকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিই আসলে। কারণ ভালো কিছুই ভালো থাকে না এবং রাখা টাফ হয়ে যায়। মানুষ এটাকে খুব ভালোভাবে নেয় না আমার এটুক মনে হয় আরকি! ওর সাথে আমার প্রেম ছিল।’
সাদিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাটক করতে গিয়ে না, ওর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা ছিল একটা বিজ্ঞাপনের থ্রুতে। আমার কাছে একটা বিজ্ঞাপন আসে, তারা চাচ্ছিল বাঙালি, আনাড়ী এরকম একটা মেয়ে দরকার যে শাড়ি পরলে তাকে মনে হবে এই। তো ওর একটা আমি মনে হয় নাটকে একঝলক তাকে দেখি। তখন আমি ওনাদের বললাম যে, ও হতে পারে, আপনারা দেখেন। ওই কাজে প্রথম দেখা, তারপরে মাঝেমধ্যে কথা হতো। জিনিসটা কি আসলে প্রেম কি না তাও জানি না, কারণ এখন মনে হয় আরকি যে কিছুই ছিল না আসলে।’
২০২৪ সালের ১৬ই মার্চ পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নার একটি নাটকের শুটিং সেটে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার গুঞ্জন এবং এরপর থেকে সাদিয়ার সঙ্গে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে বাসার বলেন, ‘কাজ আগে থেকেই বন্ধ। কিন্তু এই কাজটার জন্য আমি বান্না ভাইয়ের সাথে কমিটেড ছিলাম। সো ওইটা লাস্ট কাজ ছিল। কারণ আমি কমিটমেন্ট তো ভাঙতে পারি না। আমি কমিটেড ছিলাম ওই কাজটা করার জন্য। ওই কাজটাই লাস্ট কাজ ছিল।’
শুটিং সেটে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন, ‘না, শুটিং সেটে শুটিং হয়েছে। কাজ করছিলাম।’ বলিউডে রণবীর-দীপিকা কিংবা রণবীর-ক্যাটরিনাদের মতো ব্রেকআপের পরও প্রফেশনাল খাতিরে একসঙ্গে কাজ করার উদাহরণ টানলে বাংলা নাটকের দর্শকদের ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। এ বিষয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বাসার বলেন, ‘আমার কাছে খুবই সাধারণভাবে মনে হয় যে, আমাদের একসাথে কাজ না করা ভালো।’
ব্রেকআপের পরও কাজের পেশাদারিত্ব বজায় না থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি যোগ করেন, ‘দর্শক তো আসলে চায়, কিন্তু আমার মনে হয় যে, আমি স্বাভাবিক থেকেই তাকে কাজ করতে হবে, সেও স্বাভাবিক থেকেই তার কাজ করতে হবে। সো আমরা ওই জায়গাটা রাখি নাই। আমরা ওই জায়গাটা রাখি নাই।’