Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১৩ আগস্ট ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

‘আদিবাসী পরিচয় অস্বীকার নয়, স্বীকৃতি চাই’: দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের প্রতিবাদ

জেসিকা শেখ 'We want recognition, not denial of indigenous identity'

বাংলাদেশে ‘আদিবাসী গোষ্ঠী নেই’ এবং দেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক—দুই মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম।


বুধবার (১২ আগস্ট) সংগঠনটির সভাপতি সুমী মুর্মুর পাঠানো এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য দেশের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অস্বীকার করার শামিল।


ফোরামের দাবি, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সব মানুষের অভিন্ন পরিচয় থাকলেও প্রত্যেক জাতিসত্তার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে। তাই নাগরিক পরিচয়ের সঙ্গে কোনো জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।


বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, মাহালী, ভূমিজ, পাহাড়িয়া, কোচ ও রাজবংশীসহ বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব সামাজিক রীতি, ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা। সরকারি কোনো বক্তব্যের মাধ্যমে এসব ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।


উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম আরও বলেছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি আইন, নীতি ও নথিতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও তাদের ভাষা-সংস্কৃতির বিষয়টি বিভিন্নভাবে স্বীকৃত ও আলোচিত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০-এর বিভিন্ন বিধানের কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।


সংগঠনটির ভাষ্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছে না; বরং নিজেদের জাতিগত পরিচয়, অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও মর্যাদার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাশা করছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেওয়া বাণীতেও আদিবাসীদের বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এবং সমমর্যাদার নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ফোরাম।


এ অবস্থায় দুই মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত, ‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি ও অবমাননাকর বক্তব্য বন্ধ এবং দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম।

বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


বার্তা প্রেরক,
সুমী মুর্মু
সভাপতি 
উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম 
রাজশাহী মহানগর 
মোবাইল : ০১৭১৮২৭২২১৯
© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news