রাজশাহীর কাটাখালীর বেলঘরিয়া এলাকায় একটি কওমি মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী আবাসিক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা প্রকাশ করার পর শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের দাবি, বেলঘরিয়া এলাকার তা’লীমুল কুরআন হাফেজিয়া ক্বওমী বালক-বালিকা মাদ্রাসায় শিক্ষক আবদুর রউফ প্রায় রাতেই শিশুটিকে মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন করতেন। বাধা দিলে মারধর এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পরিবারের।
শিশুটির মায়ের ভাষ্য, গত মে মাসের শেষ দিকে যৌন নিপীড়নের পর তাঁর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বাড়িতে এসে সে বিষয়টি তাঁকে জানায়। এরপর তিনি মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেনকে ঘটনাটি জানান। পরিবারের দাবি, পরিচালক তখন বিষয়টি অন্য কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুর রউফকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়ার পর শিশুটিকে আবারও ওই মাদ্রাসায় পাঠানো হয়।
তবে পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মীম খাতুন শিশুটির সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। কয়েক দিন আগে চুরির অপবাদ দিয়ে শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
শিশুটির মা বলেন, পরে তাঁর ছেলেকে অন্য একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করতে চান। তবে তাঁর অভিযোগ, পুলিশ মামলা নিতে চাইছে না। পাশাপাশি এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি পুলিশ পরিচয় দিয়েও কয়েকজন তাঁদের ভয় দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিশুটির বাবা পেশায় অটোরিকশাচালক। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা তাঁকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়েছেন। মামলা করলে মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং অটোরিকশা নিয়ে বের হলে পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক আবদুর রউফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। এ জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের একটি রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুরু থেকেই জানেন। অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হয়েছিলেন। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তখন কেউ তাঁর কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেননি।
ওসি বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসা থেকে শিশুটিকে বের করে দেওয়ার পর নতুন করে অভিযোগটি সামনে এসেছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্ত ছাড়া এখনই বলা সম্ভব নয়।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। শিশুটির পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।