
সংগ্রাম আর প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজ সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুদের জন্য কাজ করে চলেছেন সুমি মুর্মু। মাহালি সম্প্রদায়ের এই নারী একদিকে যেমন নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন, অন্যদিকে শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সুমি মুর্মু মাহালি সম্প্রদায়ের নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় থেকেই তাঁর এই উদ্যোগের পথচলা।
শুধু সংগঠন পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই তাঁর কার্যক্রম। শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তাদের ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর করার লক্ষ্যে তিনি দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়ে পরিচালনা করছেন। যেখানে শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছে তারা।
সুমি মুর্মুর কাছে শিক্ষা শুধু একটি সনদ অর্জনের বিষয় নয়; বরং একটি শিশুকে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। তাই সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, মাহালি সম্প্রদায়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতেও পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। নারীদের বিভিন্ন কাজে উৎসাহ দেওয়া, তাঁদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন।
একজন নারী যখন নিজের হাতে আয় করতে পারেন, তখন শুধু তাঁর নিজের জীবনই বদলায় না—পরিবর্তন আসে পুরো পরিবারে। সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের প্রয়োজন মেটানো এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁর ভূমিকা বাড়ে। এই পরিবর্তনকেই সামনে রেখে সুমি মুর্মু নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
মাহালি সম্প্রদায়ের মতো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা সহজ নয়। নানা সীমাবদ্ধতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সুমি মুর্মু।
তাঁর উদ্যোগে শিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিশুরা একদিন নিজেদের সম্প্রদায়ের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে—এমন প্রত্যাশাই তাঁর। একই সঙ্গে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবেন, এমন স্বপ্ন নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সুমি মুর্মুর এই পথচলা তাই কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের গল্প নয়; এটি একটি সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। যেখানে শিক্ষা হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ গড়ার হাতিয়ার, আর নারীর স্বাবলম্বিতা হয়ে উঠছে পরিবারের অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি।
নিজের জন্য নয়, নিজের সম্প্রদায়ের আগামী প্রজন্মের জন্য কাজ করে যাওয়া সুমি মুর্মু তাই মাহালি নারী ও শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছেন আশার এক নীরব আলোকবর্তিকা।