
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর গ্রামে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতা শহীদ আলফ্রেড সরেনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট সকাল ১১টায় তাঁর নিজ গ্রামে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় বক্তারা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে ভূমি, জীবন ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পতাকাতলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
নওগাঁ জেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি আমিন কুজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডি। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সুধীর তির্কী, দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ লাকড়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুপচান লাকড়া, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস, রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, নওগাঁ জেলার সভাপতি দীপঙ্কর লাকড়া, সাধারণ সম্পাদক নয়ন পাহান, নারী নেত্রী নিতি মুন্ডা,সাপাহার সভাপতি স্বপন পাহান, যুবনেতা উত্তম কুমার দাস ও ছাত্র নেতা কাজল মার্ডীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, আলফ্রেড সরেন শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভূমি ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনের একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। তাঁর হত্যার ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়া আদিবাসী মানুষের জন্য গভীর বেদনা ও হতাশার বিষয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর হত্যার বিচার হয়নি, তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্মরণসভায় বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকার অধিকার রক্ষায় আলফ্রেড সরেন যে সংগ্রামের পথ দেখিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলফ্রেড সরেনকে স্মরণ করে কবিতায় বলা হয়—
ভীমপুরের মাটিতে আজও
আলফ্রেডের রক্ত কথা কয়,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয়—
শহীদের স্বপ্ন মরে না কখনোই।
মাটির অধিকার রক্ষার জন্য আলফ্রেড সরেন প্রতিবাদের হাত তুলেছিলেন। শোষিত মানুষের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন। ১৮ আগস্ট তাই শুধু একটি মৃত্যুদিন নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারের দিন হিসেবেও স্মরণ করা হয়। বছর পেরিয়ে বছর গেলেও আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচারের দাবি মুছে যায়নি। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে মানুষের অধিকারের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবারও আহ্বান জানান তাঁরা।
শহীদ বীর আলফ্রেড সরেনকেন২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুরে আলফ্রেড সরেনকে হত্যা করা হয়, তাঁর মৃত্যু আদিবাসী অধিকার আন্দোলনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ভীমপুরে তাঁকে স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্মরণসভা শেষে নেতারা আলফ্রেড সরেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।