রাজশাহীর তানোরে কালীমাতার নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৫ একর ৪ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং সেখানে বসবাসরত হিন্দু পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিবরামপুর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সুরাহা না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তানোর উপজেলার শিবরামপুর মৌজায় কালীমাতার নামে থাকা ওই সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভোগদখল করে আসছেন। একই সঙ্গে জমির ওপর থাকা কালীমাতার মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনাও হয়ে আসছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিবরামপুর মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ১৩৭ ও ১৩৮ এবং আরএস খতিয়ান নম্বর ১২৩-এ ওই সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ের ভূমি রেকর্ডেও জমিটি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে সম্প্রতি একটি পক্ষ সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি কিনেছেন দাবি করে সম্পত্তিতে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই জমির একটি অংশে বসবাসরত কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনহাট নামোশংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে গিয়ে হিন্দু পরিবারগুলোর বাড়িঘর উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন—দেবোত্তর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করা হলো?
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৬ আগস্ট রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কালীমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি আকাশ মাহাতো, সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার মাহাতো, রঞ্জিত কুমার মাহাতো ও দয়াল চন্দ্র মাহাতোসহ প্রায় ২০ জন। অভিযোগে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই, সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নিষ্পত্তি না হলে বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা, রেকর্ডের বৈধতা এবং বিক্রয়সংক্রান্ত দাবির সত্যতা ভূমি কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ।