
রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে রোগী ধরার দালালদের বিষয়ে মাইকে সচেতনতা তৈরির সময় এক সিকিউরিটি গার্ডকে মারধর ও গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম আরিফকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম আরিফ রাজশাহী মহানগরীতে রোগী ধরার দালাল হিসেবে পরিচিত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার শিকার মো. সাব্বির হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর মোড়ের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুরাতন ভবনে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত।
গত ১৯ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী হ্যান্ডমাইকে রোগী ধরার দালাল, চোর, পকেটমার ও প্রতারকদের বিষয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের সতর্ক করছিলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় রোগী ধরার দালাল হিসেবে পরিচিত আরিফুল ইসলাম আরিফসহ কয়েকজন সেখানে এসে সাব্বিরকে মাইকে বক্তব্য দিতে নিষেধ করেন। সাব্বির প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানালে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলাফোলা জখম হয়। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে অন্যদের উসকানিতে আরিফুল ইসলাম আরিফ দৌড়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুরাতন ভবনের পেছনে যান। সেখান থেকে একটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তিনি সাব্বিরের গলায় ধরে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নজরে আসলে, তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনার পর রাজপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযোগ পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই আরিফুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাব্বির হোসেন তাঁর কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গত ২০ আগস্ট রাজপাড়া থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজতে থাকা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।