Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২১ আগস্ট ২০২৬
০৫:৪৬ অপরাহ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী, সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে শূন্য

আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী:- Foreign students at Rajshahi University are decreasing

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্নাতক পর্যায়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। কয়েক বছর ভর্তিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভর্তিপ্রক্রিয়ার জটিলতা, আবাসন ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং ভিসা জটিলতার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের প্রভাবেও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে তিনজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ফার্মেসি বিভাগে দুজন এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে একজন ছিলেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন একজন। পরে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।


এরপর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়। ওই শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে আটজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাঁদের সবাই ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে। তাঁদের মধ্যে একজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং আটজন ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে ভর্তি হন।


তবে এরপর আবারও নিম্নমুখী হয় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তিনি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।


বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রাবিতে ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাঁদের মধ্যে জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে দুজন, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে তিনজন এবং কেমিস্ট্রি বিভাগে একজন রয়েছেন।


এ ছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন। তাঁদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগে এমফিল পর্যায়ে সোমালিয়ার একজন, ফোকলোর বিভাগে ভারতের দুজন, ইতিহাস বিভাগে ভারতের একজন এবং আরবি বিভাগে ভারতের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি ফোকলোর বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ে ভারতের আরও একজন শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন।


বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে ভর্তিপ্রক্রিয়া ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন নেপালের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ভর্তি হওয়ার পরও অনেকে চলে যান।


ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, এম্বাসির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া ও ভর্তির সুযোগ থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভিসা জটিলতার কারণেও অনেকে রাবিতে আসতে আগ্রহী হন না।


তবে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কথা স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে তাদের সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাগজপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে যথাযথভাবে আনা হলে বিষয়টি যাচাই করা সহজ হয়।


তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক আলাদা ক্রাইটেরিয়া ও গাইডলাইন রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী সেই শর্ত পূরণ করলে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাকে গ্রহণ করলে ভর্তি করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।


অন্যদিকে, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের প্রভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম। তিনি বলেন, আগে রাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু মাঝের সময়ের বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তাদের সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে আন্দোলনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী হয়তো এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়নি কিংবা ভর্তিপ্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসেনি।


তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবারও রাবির প্রতি আকৃষ্ট করতে একাডেমিক প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news