Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২৫ আগস্ট ২০২৬
০৬:২৩ অপরাহ্ন

রাজশাহী মেডিকেলে রোগীর অসহনীয় চাপ, বেডের নিচেও ঠাঁই

নিজস্ব প্রতিবেদক Rajshahi Medical College

রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। বেডে জায়গা না থাকায় রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে বেডের নিচে, বারান্দা ও হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে। কোথাও ফ্যান-লাইটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গরমে রোগী ও স্বজনদের ভরসা হয়ে উঠেছে হাতপাখা।


হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। বেডের পাশাপাশি মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের জায়গাতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক পরিবেশ।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোনো কোনো স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও নেই। তীব্র গরমে রোগীদের স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন।


এদিকে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সরবরাহ-সংকটের অভিযোগ রয়েছে। রোগীর স্বজনদের দাবি, রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পট ও সিরিঞ্জ না থাকায় কখনো কখনো তাদের বাইরে থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে হচ্ছে।


চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে রোগী-স্বজনদের নানা অভিযোগ। তাদের দাবি, কোনো কোনো ওয়ার্ডে দিনে একবার চিকিৎসক এসে রোগীদের দেখে চলে যান। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত সহযোগিতা করায় সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। 


রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে কেউ শখ করে আসে না; বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব না হলে কিংবা রোগের জটিলতা বেড়ে গেলে শেষ ভরসা হিসেবে তারা রামেক হাসপাতালে ছুটে আসেন।

ফলে রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শয্যা বৃদ্ধি, ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সামগ্রী সরবরাহ এবং চিকিৎসক-নার্সের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন রোগী ও স্বজনরা।


তাদের প্রশ্ন—গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের শেষ আশ্রয় সরকারি এই হাসপাতালে যদি বেডের নিচে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

রোগীর অতিরিক্ত চাপ, শয্যা সংকট, চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ এবং ওয়ার্ডের লাইট-ফ্যানের সমস্যা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,রোগী ও স্বজনদের দাবিগুলো আমিও অবহিত। 


তাদের দাবি ও রোগী-স্বজনদের অভিযোগ—উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা হবে বলেও জানান, হাসপাতালটির পরিচালক। 


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news