শিশু-কিশোর, তরুণসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। এ পরিস্থিতিতে প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)’ চালুর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) : প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এ তাগিদ দেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব রোগের অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। বর্তমানে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে লেখা জটিল পুষ্টি তথ্য ভোক্তাদের জন্য বোঝা কঠিন। ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না তারা।
তারা আরও বলেন, খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের মোড়কের সামনের অংশে সহজে বোধগম্য সতর্কবার্তা বা এফওপিএল চালু করা কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এর মাধ্যমে কোনো খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা ক্ষতিকর চর্বি রয়েছে কি না, তা ভোক্তা সহজেই বুঝতে পারবেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়। এটি ভোক্তাকে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করবে।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় এফওপিএলের কার্যকারিতা তুলে ধরে গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণের পথ সুগম করবে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।