Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২৬ আগস্ট ২০২৬
০৭:১৬ অপরাহ্ন

ইয়া নবী সালামো আলাইক

ওয়ালিউর রহমান বাবু O Prophet, peace be upon you.

মানবতার সেবায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন । তাঁর ছিল প্রচুর ধৈর্য্য, বিপদে কখনো হতাশ হননি। ছিলেন ক্ষমতাশীল দানশীল । পালন করতেন অতি সরল সহজ সাধারণ জীবন । চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল প্রবল। দৃঢ় স্বভাবের হলেও ছিলেন নির্মল ও কোমল মনের মানুষ । সবার কাছে ছিলেন বিশ্বাসী এমন কি তার বিরোধীদের কাছেও। এই কারণে সকলে তাকে আল-আমীন বলে ডাকতেন । কখনোই প্রতারণা বা অসত্যের আশ্রয় নিতেন না। অসামাজিক কাজ, হত্যা ও দাস প্রথার প্রতিবাদ করে সৃষ্টি করেছিলেন সাম্যের। আল্লাহর প্রতি ছিল অবিচল বিশ্বাস। ভ্রান্ত মানুষকে সত্য পথে আনতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন । তার জীবনটা ছিল বৈচিত্রময় তিনি ছিলেন শাসক সেনাপতি সমাজসেবী ইমাম ধর্ম প্রচারক সংস্কারক ন্যায় পথে থাকা সৎ ব্যবসায়ী। অনেক সময় জন্মভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে কিন্তু কখনো তার পথ থেকে সরে যাননি। সহ্য করতে হয়েছে লাঞ্ছনা । বিরোধীরা তাকে নানান অপবাদ দিয়েও তাকে বিচলিত করতে পারেনি। শিশুকাল থেকে তাকে করতে হয়েছে সংগ্রাম। তার জন্ম হয়েছিল আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে। সে সময় আরব সমাজের অবস্থা ছিল সংকটপূর্ণ । ৫৭০ খ্রীষ্টাব্দে ১২, রবিউল আউয়াল মা আমিনার কোলে' তিনি আসেন। তার আগেই বাবা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার লালন পালনের দায়িত্ব নেন । সে সময়কার নিয়ম মত তাকে পালন পালনের জন্য দেওয়া হয় ধাত্রী বিবি হালিমার কাছে। বিবি হালিমা ও তার মেয়ে সায়মা শিশু মুহাম্মদকে দেখাশুনা করতে থাকেন । ঘটে যায় অলৌকিক ঘটনা । পাঁচ বছর বয়সে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা পাঠিয়ে তার আত্মশুদ্ধি করেন । দাদার ইন্তেকালের পর চাচা আৰু "লিবের কাছে আদর যত্নে বড় হতে থাকলেও আর্থিক কারণে তাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো। মেষ, উট চরাতে হত । লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি । প্রকৃতি থেকেই তিনি শিক্ষা লাভ করেছিলেন। ভীষণ চিন্তা মগ্ন থাকতেন। অবসরে কারাগৃহে আসা সফরকারীদের পানি সরবরাহ করতেন। বার বছর বয়সে চাচার সাথে ব্যবসার কাজে সিরিয়া গেলে বসরার বাহিরা নামে এক খ্রীষ্টান সাধু তার মধ্যে কিছু আলামত দেখে বুঝতে পেরেছিলেন উনি নবী। চাচা আবু তালিবকে ইহুদিদের হাত থেকে কিশোর মুহাম্মদকে রক্ষার জন্য সতর্ক করে দেন। কুরাইশ কায়েশ গোত্রের মধ্যে জুয়াখেলা ঘোড়াদৌড় দিয়ে রক্তপাত তার হৃদয়ে গভীর ভাবে দাগ কাটে। এই সংঘর্ষ বন্ধ করার জন্য উদার স্বার্থহীন ত্যাগী যুবকদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছিলেন। সত্য ন্যায়নিষ্ঠার জন্য তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। বিবি খাদিজা তাকে প্রচন্ড বিশ্বাস করতেন। তাকে তার ব্যবসা দেখা শুনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বিয়েও হয়েছিল। কাবা গৃহ সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে রক্তপাতের আশঙ্কা বন্ধ করেছিলেন। বিবি খাদিজার সাথে বিয়ে হবার পর হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হতে থাকে। তার জীবনে আশ্চর্জজনক পরিবর্তন আসতে থাকে । তিনি ধ্যানে মগ্ন হয়ে উঠলেন মক্কার অদূরে হেরা পাহাড়ের গুহায় ধ্যানে মগ্ন থাকতেন । এভাবে ৪০ বছর বয়সে অলৌকিকভাবে ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে নবুয়াত লাভ করেন। ফেরশতা জিবরাইল (আঃ) তাকে

বললেন-পড়ন আপনার সৃষ্টি কর্তার নামে। রমজান মাসের ২৭ তারিখে তিনি শবে কদরের রাত্রে আল্লাহর বাণী পাঠ করে নবীর মর্যাদা লাভ করলেন । এসব ঘটনা শুনার পর বিবি খাদিজা সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি তাঁর চাচাত ভাই তখনকার জ্ঞানী ব্যক্তি ওয়ারাকা বিন নওফেলের কাছে ঘটনা বললে তিনি জানালেন মুহাম্মদ (সঃ) খুব শীঘ্রই নবী হবেন। তিনি তাকেও কিছু সতর্ক মূলক উপদেশ দিয়েছিলেন । বাধা উপেক্ষা করে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সাফ পাহাড়ের সমাবেশে ঘোষণা করলেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বিরোধীরা নির্যাতন করলেও সত্য পথ থেকে তিনি সবে আসেননি। এর পর পরই হযরত হামজা (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইসলাম প্রচারে নামলেন ।

বাধা পেয়ে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পরিবার নিয়ে নির্বাচনে চলে যেতে হয়েছিল। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে ফিরে এসেছিলেন মক্কায় কিন্তু সত্য পথ থেকে কেউ তাকে ফিরাতে পারেনি। স্ত্রী বিবি খাদিজা ও চাচা আবু তালেবে মৃত্যুতে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। পুত্র জায়েদকে নিয়ে তায়েফে গিয়ে ইসলাম প্রচার করলে তাদের তাড়িয়ে দেওয় হয় । তারা অন্য একটি গোত্রে থাকতে লাগলেন। এসময় পৰিত্ৰ ধৰ্ম গ্ৰন্থ পাওয়া যায়, আল্লাহতালায়ার নির্দেশে তিনি মেরাজ যান ।

মক্কা হতে জেরুজালেম হয়ে বুরাকের পিঠে সাত আসমান পার হয়ে আল্লাহতায়ালার দেখা পান। এরপর থেকে পাঁচওয়াক্ত নামাজ, রমজান মাসে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। তায়েফ থেকে ফিরে তিনি কেবলমাত্র তীর্থযাত্রীদের মধ্যে বাণী প্রচার করতে থাকেন । ষড়যন্ত্র প্রকট হলে চলে যান ইয়াসরিবে । সেখান থেকে মদিনায়। সেখানে তিনি সম্মান ও সমর্থন পান, তাকে বহু যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। তার কড়াকড়ি নির্দেশ ছিল কেউ প্রকৃতির সম্পদ ধ্বংস করতে পারবে না, মহিলা ও শিশুদের ক্ষতি করতে পারবে না। দলে দলে লোকজন তার কাছে আসতে থাকে। তিনি পারেন তাকে বিদায় নিতে হবে ১১,৪৮০ জন অনুসারী নিয়ে হজ্ব পালন করলেন । মাতামে ইব্রাহিমে নামাজ আদায় করে সাফা মারওয়া দৌড়ানের পরে আরাফাত ময়দানে সমবেত মানুষদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন । সেই নির্দেশের কিছু যেমন- ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না, সব কাজের জবাবাদিহিতা আল্লাহর কাছে দিতে হবে 'পুরুষদের যেমন অধিকারি, মেয়েদেরও তেমনি অধিকার' পাপ কাজ এড়িয়ে যাবে, সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ; রক্তের বদলে রক্ত নীতি নিষিদ্ধ I “দাস-দাসীর সাথে ভাল ব্যবহার করবে:: নর হত্যা, ব্যাভিচার করবে না' আল্লাহ তায়ালার সাথে কারো অংশীদারিত্ব করিওনা, ১১ কার কিছু জোর করে নিবে না, বংশগত কৌলিন্য প্রথা বিলুপ্ত হল: পথ প্রদর্শক হিসাবে পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদিস রেখে গেলাম; এরকম অনেকগুলি নির্দেশ দেওয়ার পর বলেন, আল-বীদা। হজ্ব শেষে মদিনায় ফিরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ৬৩২ খ্রীষ্টাব্দে ১১ হিজরীর ১২ রবিউল আউয়াল নামাজরত অবস্থায় ইন্তেকার করলেন । ১২ রবিউল আউয়াল তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিন। যার পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এদিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করে থাকে । মহানবীর দেওয়া নির্দেশ ও পথ বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যাবে মুক্তির পথ ।

লেকখ :  সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news