Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২৭ আগস্ট ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

ননস্টপ ট্রেন দাঁড়ায়, মেইল ট্রেন পায় ‘প্রেফারেন্স’—পাকশি কন্ট্রোলের ট্রেন পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী: Questions about Pakshi Control's train operations

নির্ধারিত স্টপেজ নেই, যাত্রাপথে দ্রুতগতির সার্ভিস—তারপরও ননস্টপ হিসেবে পরিচিত আন্তঃনগর ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে অপেক্ষাকৃত ধীরগতির মেইল বা লোকাল ট্রেনকে আগে চলার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠছে পাকশি কন্ট্রোলের ট্রেন পরিচালনা নিয়ে। এতে নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

সর্বশেষ এর একটি চিত্র দেখা গেছে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) ভোরে। রংপুর এক্সপ্রেসের ইনরিপোর্ট অনুযায়ী, বনলতা এক্সপ্রেসকে চাটমোহর এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সময় তখন প্রায় ভোর ৫টা ৪০ মিনিট। অথচ বনলতা এক্সপ্রেস সীমিত স্টপেজের দ্রুতগতির আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে পরিচালিত হয়। প্রকাশিত সময়সূচিগুলোতেও চাটমোহরকে বনলতা এক্সপ্রেসের নিয়মিত স্টপেজ হিসেবে দেখানো হয়নি।


রেলওয়ের অপারেশনাল ব্যবস্থায় ট্রেনের অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তঃনগর ও দ্রুতগতির ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা হলে একটি ট্রেনের কয়েক মিনিটের বিলম্বও পরবর্তী স্টেশনগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ মাঠপর্যায়ে কখনো কখনো এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রী ও রেলসংশ্লিষ্টদের।


ননস্টপ ট্রেনের ‘সময়’ গেল কোথায়?:-

বনলতা এক্সপ্রেসকে যাত্রীদের কাছে দ্রুত ও সীমিত-বিরতির ট্রেন হিসেবে পরিচিত করা হলেও পথে অপ্রত্যাশিতভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হলে এর মূল সুবিধাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। প্রকাশিত বর্তমান সময়সূচিতে ৭৯১/৭৯২ নম্বর বনলতা এক্সপ্রেসের নির্ধারিত বিরতি অত্যন্ত সীমিত—ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পথে বিমানবন্দর ও রাজশাহী এবং বিপরীত পথে রাজশাহীসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি স্টেশন রয়েছে।

ফলে চাটমোহরের মতো নির্ধারিত স্টপেজ নয় এমন স্থানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে—ট্রেনটি যদি ননস্টপ বা সীমিত-বিরতির সুবিধা নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে, তাহলে কন্ট্রোলের সিদ্ধান্তে সেই সময়ের মূল্য কতটা রক্ষা করা হচ্ছে?


আন্তঃনগরকে বসিয়ে মেইল ট্রেন কেন?:-

রেলযাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের একটি অংশ হলো—কখনো কখনো অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকা আন্তঃনগর ট্রেনকে সাইডিং বা স্টেশনে অপেক্ষা করিয়ে অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ট্রেনকে আগে পার করে দেওয়া হয়। এতে একটি ট্রেনের বিলম্ব শুধু ওই ট্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পরবর্তী ক্রসিং, স্টেশন প্রবেশ ও প্রস্থানের সময়েও এর প্রভাব পড়ে।

চাটমোহর রেলপথে একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। প্রকাশিত সময়সূচিতে ধূমকেতু, সিল্কসিটি, চিত্রা ও পদ্মা এক্সপ্রেসের মতো আন্তঃনগর ট্রেনের চাটমোহর অতিক্রমের নির্ধারিত সময়ও রয়েছে।


এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—কোন ট্রেনকে কখন ‘লাইন প্রেফারেন্স’ দেওয়া হবে, সেটি কি একটি সুসংগঠিত অপারেশনাল পরিকল্পনার ভিত্তিতে হচ্ছে, নাকি তাৎক্ষণিক কন্ট্রোল সিদ্ধান্তের ওপর বেশি নির্ভর করছে?


কন্ট্রোলের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন:-

একটি রেলওয়ে কন্ট্রোলের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির ট্রেনের চলাচল সমন্বয় করা, সংঘর্ষ বা জট এড়ানো এবং নির্ধারিত সময়সূচি যতটা সম্ভব বজায় রাখা। ফলে কোনো আন্তঃনগর ট্রেনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি কেবল একটি ট্রেনের বিলম্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয় পুরো অপারেশন ব্যবস্থাপনার দক্ষতার প্রশ্ন।


বিশেষ করে ননস্টপ বা সীমিত-বিরতির ট্রেনকে সময়ের বাইরে দাঁড় করানো এবং একই রুটে অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ট্রেনকে আগে চলার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা রেলওয়ের সময়ানুবর্তিতা ও যাত্রীসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।


প্রয়োজন তদন্ত ও জবাবদিহি:-

রেলওয়ের ট্রেন পরিচালনায় কোনো অনিয়ম বা ভুল সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে সেটি শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সংশ্লিষ্ট সময়ের কন্ট্রোল লগ, ট্রেনের ইনরিপোর্ট, স্টেশন লগ ও সিগন্যালিং তথ্য পর্যালোচনা করা। এতে কোন ট্রেন কখন কোথায় দাঁড়িয়েছে এবং কেন দাঁড়িয়েছে—তার একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া সম্ভব।

তাই যাত্রীদের প্রশ্ন—ননস্টপ ট্রেনের সময় যদি কন্ট্রোলেই মার খায়, তাহলে দ্রুত ও সময়নিষ্ঠ রেলসেবা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, এমন অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে কন্ট্রোল পরিচালনা, ট্রেনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সময়সূচি বাস্তবায়ন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে কোনো ট্রেনকে নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে দাঁড় করানোর যৌক্তিক কারণ থাকলে সেটিও যাত্রীদের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


কারণ, রেললাইনে শুধু ট্রেন চললেই হয় না—সঠিক ট্রেনকে সঠিক সময়ে অগ্রাধিকার দিয়ে চালানোই দক্ষ ট্রেন পরিচালনার বড় পরীক্ষা।




© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news