রাসুল (সা.)-এর নিকটাত্মীয় ছিলেন হজরত হামনা (রা.)। তিনি ছিলেন রাসুল (সা.)-এর ফুফু উমাইমা বিনতে আবদিল মুত্তালিবের কন্যা। তিনি একইসঙ্গে রাসুল (সা.)-এর ফুফাতো বোন ও শালী ছিলেন। মদিনায় প্রেরিত রাসুল (সা.)-এর প্রথম দূত হজরত মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) তার প্রথম স্বামী।
মক্কায় ইসলামের প্রথম দিনগুলোতে ইসলাম গ্রহণ করেন হামনা (রা.)। তার পুরো পরিবার মুসলিম ছিলেন। মক্কায় তাদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তারা মদিনায় হিজরত করেন। মহানবী (সা.) ও নিজের স্বামীর কাছ থেকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শিক্ষিত মুসলিম নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে মদিনার সমাজে তিনি বিশেষ সম্মান লাভ করেন। যায়নাব বিনতে মুসআব নামে তার এক কন্যা সন্তান ছিল।
কয়েকজন নারীর সঙ্গে মিলে তিনি উহুদ যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই যুদ্ধের সৈনিক হজরত কাব ইবনে মালিক (রা.) বলেন, উহুদ যুদ্ধে আমি সুলাইম বিনতে মিলহান ও উম্মুল মুমিনীন আয়শা (রা.)-কে তাদের পিঠে পানির মশক বহন করতে দেখেছি। হামনা বিনতে জাহাশকে পিসাসিতদের পানি পান করাতে ও আহতদের সেবা করতে দেখেছি। উম্মে আয়মানকে আহতদের পানি পান করাতে দেখেছি।
এই যুদ্ধে হামনার স্বামী মুসআব, তার মামা ও ভাইসহ ৭০জন সাহাবি শহীদ হন। স্বামীর মৃত্যুর কথা শুনে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। রাসুল (সা.) হামনা ও তার সন্তানদের জন্য দোয়া। এরর জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবি হজরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় তার।
উহুদের পর খায়বার যুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। স্বামী তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহর ঘরে মুহাম্মদ ইবনে তালহা নামে এক ছেলেকে জন্ম দেন তিনি। ছেলে জন্মের পর ছেলেকে নিয়ে নবীজির দরবারে যান তিনি এবং নবীজিকে ছেলের নাম রাখতে বলেন। নবীজি তার নাম রাখেন মুহাম্মদ।
হামরা (রা.) রাসুল (সা.)-এর বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২০ হিজরির পরে ইন্তেকাল করেন।