সকালের সূর্য উঠার আগে ফুটে উঠেছে সারি সারি সাদা পদ্ম ও শাপলা ফুল। সকালের স্নিগ্ধ বাতাসে পাখিদের কোলাহলে ফুলের সৌন্দর্য যেন অপরূপ হয়ে ওঠে। এমন মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য মন কাড়ছে ভ্রমন পিপাসুদের। সেখানে অনেকে নিজেকে ফুলের সঙ্গে ছবিবন্দি করতে ছুটে আসছেন। যেন সাদা ফুলের পাপড়ির ছড়াছড়ি বাফলার বিলে।
বাফলার বিলটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের রনচন্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামে অবস্থিত। ১৩ কিলোমিটারের ৩৫০ বিঘা খাস জমির ওপর এই বিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাফলার বিলজুড়ে ফুটেছে পদ্ম ও শাপলা ফুল। যেন এক সাদা ফুলের মেলা । এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উদাসী করে তোলে সব বয়সী মানুষকে। অনেকে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিলের পানিতে নৌকায় ভাসছেন। স্মৃতি করে রাখতে নিজেকে সেলফিবন্দি করছে ভ্রমণ পিপাসুরা। সকালের আলো পড়তেই পানি আর ফুল যেন ঝলমল করছে। সূর্যের সোনালি আভা পানিতে প্রতিফলিত হয়ে সৌন্দর্য বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। নৌকায় করে পুরো বিল ঘুরতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা।
অপরদিকে এ বিলে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে কয়েকশ মানুষ। ঐতিহ্যবাহী এ বাফলার বিলে শীত মৌসুমে অতিথি পাখিতে ভরে যায়। আবার গ্রীষ্ম মৌসুমে পানি শুকে গেলে স্থানীয়রা বোরো আবাদ করেন। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় সরকারি সহায়তা পেলে বিলটি পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিলটিতে ঘুরতে আসা আনুফা আক্তার বলেন, আমি ফেসবুকে দেখেছি, এ বিলের সৌন্দর্য অনেক মনোমুগ্ধকর। ফুল আমার প্রিয়। ছবি ও ভিডিও দেখার পরে আমি এখানে ঘুরতে এসেছি। নৌকা নিয়ে ঘুরলাম ছবি তুললাম, অনেক ভালো লেগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, বিলটিতে প্রতি বছর পদ্ম ও শাপলা ফুল ফুটে। সুন্দর দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক আসেন। বিলটিতে বসার ও কিছু খাবারের দোকান করলে পর্যটক স্থান হিসেবে ভালো পরিচিত পাবে।
রনচন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, এটি ঐতিহ্যবাহী বাফলার বিল। স্থানীয়রা এ বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। শীতের সময়ে এখানে অতিথি পাখিদের কোলাহলে সৌন্দর্য বেড়ে ওঠে। এখন ফুলে বিলটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে উঠেছে। এখানে স্থানীয়দের নৌকা আছে। কেউ ঘুরতে আসলে তারা নৌকায় ঘুরায়। প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। সরকারিভাবে বিলটিকে পর্যটনের উপযোগী করা দরকার। এটিতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে ৷
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, বিলটির সৌন্দর্য রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি করার চেষ্টা করবো।