Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:১৩ অপরাহ্ন

শিক্ষায় বরাদ্দ কোনো খরচ নয়, এটি রাষ্ট্রের বিনিয়োগ : নুরুল হক নুর

অনলাইন ডেস্ক ৩১ আগস্ট ২০২৬

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, আমরা যারা ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি করেছি কিংবা বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে দেওয়া উচিত। এই বরাদ্দ রাষ্ট্রের কোনো খরচ নয়, এটি রাষ্ট্রের বিনিয়োগ। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্য খাতকেও আরও সক্ষম করে তুলতে হবে।


সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে।  


প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের হাতে এখন ডিজিটাল ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইস রয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো বিষয়ে লিখে সার্চ করলেই মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য তথ্য পাওয়া যায়। ১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশ কিংবা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে রাত-দিনের পার্থক্য।


তিনি বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে এখন একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও বিশ্বপরিসরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব, গুগল, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক উদ্যোক্তা নতুন নতুন অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে বিশ্বব্যবস্থা, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছেন।


নুরুল হক নুর বলেন, আমাদের দেশেও পাঠাও, চালডালসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইটি উদ্যোক্তারা নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছেন।


তিনি আরও বলেন, ১০ বছর আগে একজন শিক্ষিত মানুষ যে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতেন, সাধারণ মানুষ হয়তো সেভাবে চিন্তা করতে পারতেন না। ২০ বছর আগে তো অনেক কিছু কল্পনাই করা যেত না। প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


তরুণদের পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি এই পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমরা পিছিয়ে থাকব।


বিএম কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, বিএম কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু একটি কলেজ নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও এই উপমহাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন এবং রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতৃত্ব এই প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয়েছে।


নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার রাজনীতিতে আসাটা কোনো পরিকল্পনা করে হয়নি। আপনাদের মতো এখানেও অনেকে হয়তো আমার মতো নিম্নবিত্ত বা দুর্বল পরিবারের সন্তান। অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছেন। আমার জন্য এটা গর্বের যে, সমাজের একটি সুবিধাবঞ্চিত কমিউনিটি থেকে উঠে এসে আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।


নুরুল হক নুর বলেন, আমার বাবা স্বপ্ন দেখতেন, আমি একজন বিসিএস ক্যাডার হবো। আমি এখন অনেক বিসিএস ক্যাডারকে পরিচালনা করি। নিশ্চয়ই এটা আমার জন্য ভালো লাগার বিষয়।


তিনি বলেন, আমাকে নিয়ে কে কী বলল, চরের ছেলে কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। আমি আমার কর্মের দিকে ফোকাস করি। ইচ্ছাশক্তি, আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা থাকলে মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।


অনুষ্ঠানে বিএম কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর --সংগৃহীত ছবি