Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০২:৩৪ অপরাহ্ন

সাধারণ বন্যা নয়, এটি ছিল হিমালয়ের সুনামি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক This was no ordinary flood, this was a Himalayan tsunami

কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গত বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বতে আঘাত হানে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। এই বন্যায় দুই দেশ মিলিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া এখনো নিখোঁজ আছেন সাড়ে চার হাজার মানুষ।

ভয়াবহ ওই বন্যাকে হিমালয়ের সুনামি হিসেবে অভিহিত করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিশির বলেছেন, যখন আমরা প্রথম বন্যার কথা শুনি তখন আমাদের ধারণায় সাধারণ বন্যাই ছিল। আমরা ভেবেছিলাম মৌসুমে নদীর পানি যে বৃদ্ধি পায় সেটি হয়েছে। কিন্তু বন্যাকবলিত নুয়ালকোটে ওইদিন থেকে আমি বুঝতে পারি এটি সাধারণ কোনো বন্যা ছিল না।

এই বন্যার ঢেউগুলো ছিল ২০ থেকে ৩০ মিটার উঁচু। আর এটি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটেছিল। এটি ছিল টর্নোডোর মতো বিপর্যয়। অনেকে এটিকে এখন হিমালয়ের সুনামি হিসেবে অভিহিত করছেন। এই বিপর্যয় এত ভয়াবহ ছিল, এটি নেপালের স্মরণকালের বাইরে। অর্থাৎ বর্তমান সময়ের কেউ এমন বিপর্যয় দেখেননি।- যোগ করেন শিশির।

বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বলেছে, তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮৭ জনে। অপরদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল চীন। এতে দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে।

৯৮৭টি মরদেহের পাশাপাশি অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল। এতে করে দেশটিতে এখন নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৯১৬ জনে পৌঁছেছে। অপরদিকে তিব্বতে নিখোঁজ আছেন ৫৪৬ জন।

ফলে দুই দেশে মোট নিখোঁজ আছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনের উদ্ধার কাজ চলছে আজ। এখনো যেহেতু সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। যারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ঘুরতে এসেছিলেন। অপরদিকে চীনে ২৩ দেশের ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে গত বুধবার আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই পানির শক্তি এত বেশি ছিল যে বন্যায় নিহত মানুষের মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে চলে এসেছে। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় মরদেহগুলো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল নেপাল। তাই আপাতত ডিএনএ সংগ্রহ করে সেগুলো গণকবরে সমাহিত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে কবর থেকে তুলে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সূত্র: কান্তিপুর টিভি, এএফপি

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news