Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০৬:৩০ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, কৃষিতে স্বস্তি–নগরে জলাবদ্ধতা

আবুল কালাম আজাদ Highest rainfall of the season in Rajshahi

★৯৯.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত,।

★আমন ও সবজি চাষে আশার সঞ্চার।

★নগরীর বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি।

কয়েক দিনের টানা খরায় পানির সংকটে পড়েছিল রাজশাহীর আমনখেত। ধানে ফুল আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকেরা। সেই উদ্বেগ অনেকটাই কাটিয়েছে বুধবার ভোরের অঝোর বৃষ্টি। তবে কৃষিজমিতে স্বস্তি নিয়ে আসা এই বৃষ্টিই নগরবাসীর জন্য বয়ে এনেছে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।


রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ।


বর্ষা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবার আমন চাষাবাদ নিয়ে শুরু থেকেই শঙ্কায় ছিলেন কৃষকেরা। বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে জমির পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছিল, অন্যদিকে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ।


কৃষিতে স্বস্তি :-

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার আমনখেতে এখন ধানে ফুল এসেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধানের ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ধানের দানা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে এবার আমনের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টিতে উপকার হয়েছে আগাম সবজি চাষেও।


পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার আগাম সবজি চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি ২৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। আজকের বৃষ্টিতে সবজির অনেক উপকার হবে। পাশাপাশি সেচের খরচও কমবে।’


রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


নগরে স্বস্তির বদলে জলাবদ্ধতা:-

কৃষিতে স্বস্তি এলেও একই বৃষ্টি নগরজীবনে তৈরি করেছে চরম ভোগান্তি। বুধবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টিতে সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে গেছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের সড়ক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের এলাকা, বর্ণালী মোড়, হেতেমখা ও লক্ষ্মীপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।


কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। পানিতে আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। বৃষ্টি থামার পর ধীরে ধীরে পানি নেমে গেলেও সকালজুড়ে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল।


বর্ণালী মোড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই সমস্যা হচ্ছে।’


কলেজ শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। রাস্তার পানি অনেক সময় ড্রেনের ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সিটি করপোরেশনকে এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।’


এক দিনের বৃষ্টিতে তাই রাজশাহীতে ফুটে উঠেছে দুই বিপরীত চিত্র। একদিকে দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টিতে আমন ও সবজি চাষে ফিরেছে স্বস্তি, অন্যদিকে অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে নগরবাসীকে পোহাতে হয়েছে পুরোনো জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news