Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০৫:৪২ অপরাহ্ন

নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ উপায়

অনলাইন ডেস্ক 10 ways to control your ego

নফস মানুষের সত্তার একটি স্বাভাবিক অংশ। মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতিরই অংশ। ভালো ও মন্দ উভয় দিকেই মানুষকে পরিচালিত করতে পারে নফস। কিন্তু মানুষের ভেতরের প্রবৃত্তি ও নিচু আকাঙ্ক্ষা তাকে বারবার মন্দের দিকে টেনে নেয়। তাই নফসের দুর্বলতাকে জয় করা এবং তার কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে লড়াই করা মানুষের দায়িত্ব। এটা সম্ভব সুস্থ ও পরিশুদ্ধ অন্তর গড়ে তোলার মাধ্যমে। এমন অন্তর যে অন্তর আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে।

মানুষের স্বাভাবিক ও পরিশুদ্ধ সত্তা তাকে সত্যবাদিতা, অন্যের সহযোগিতা, মা-বাবার প্রতি সদাচরণ, মানবতার কল্যাণ এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। বিপরীতে প্রবৃত্তির অবক্ষয় মানুষকে প্রতারণা, অহংকার, অনৈতিকতা, অর্থহীন কথাবার্তা, অশ্লীল দৃশ্য দেখা এবং ইবাদত পরিত্যাগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

যখন নফসে আম্মারা অর্থাৎ মন্দের দিকে প্ররোচনাদানকারী প্রবৃত্তি মানুষের বিবেক ও প্রশান্ত আত্মাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন সে অধঃপতনের দিকে চলে যায় এবং আল্লাহ থেকে দূরে সরে পড়ে। অন্যদিকে প্রশান্ত আত্মা ইবাদত, আনুগত্য এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে।


নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ উপায়

১. নিয়মিত আত্মশুদ্ধি

ইবাদত বাড়াতে হবে এবং সবসময় আল্লাহর আনুগত্যের চেষ্টা করতে হবে। কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো ফরজ ইবাদতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এরপর নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

২. আল্লাহকের স্মরণ

নফস সচেতন এবং মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর প্রভাব রয়েছে। প্রতিদিনের জীবন ও পরকালের ওপর এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে। তাই সবসময় আল্লাহকে স্মরণে রাখতে হবে এবং নেতিবাচক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তির বন্ধন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৩. গুনাহ ও নিষিদ্ধ কাজ এড়িয়ে চলা

কোনো মন্দ চিন্তা, কথা বা কাজ হয়ে গেলে তার পরপরই ভালো কোনো কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য উপকারী জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। এতে সত্য ও মিথ্যা এবং বৈধ ও অবৈধ কাজের পার্থক্য বোঝা সহজ হবে।

৪. দুনিয়ার জীবন পরীক্ষা—তা মনে রাখা

দুনিয়ার জীবন সাময়িক। চূড়ান্ত আবাস পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষা। তাই মানুষের উচিত স্থায়ী জীবনের জন্য বেশি গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা করা।

৫. সুন্নাহ অনুসরণ করা

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। তাই তার সুন্নাহ অনুসরণ করলে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে না।

৬. প্রতিটি কাজের ভালো-মন্দ প্রভাব বিবেচনা করা

প্রতিটি কাজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা উচিত। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শারীরিক ও মানসিক উপকারের পাশাপাশি প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে। বিপরীতে অলসতা বা অবহেলার কারণে নামাজ দেরিতে পড়া কিংবা ছেড়ে দিলে অপরাধবোধ, মানসিক চাপ, অনুশোচনা ও নানা অজুহাত তৈরির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে গুনাহও জমতে থাকে।

৭. সময়ের সঠিক ব্যবহার করা

নিজের সময় ও সেই সময়ে করা কাজগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। সওয়াবের কাজের মাধ্যমে নিজেকে ইতিবাচকভাবে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করা উচিত। কোনো লাভের প্রত্যাশা না করে উম্মাহর জন্য কিছু করা যেতে পারে। এসব কাজকে পরকালের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

৮. ভালো মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা

নিজের পরিবেশ এবং যাদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসা করেন, তাদের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এমন মানুষের সঙ্গ বেছে নিতে হবে, যারা ঈমান ও দ্বীন রক্ষায় সহযোগিতা করতে পারে।

৯. নিয়তের মাধ্যমে আমল পরিশুদ্ধ করা

যতবার সম্ভব নতুন করে নিয়ত করে নিতে হবে। সব কাজের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ। 

১০. দোয়া করা

পরিশুদ্ধ ও সুস্থ অন্তরের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। এমন অন্তর চাইতে হবে, যেখানে আল্লাহর ভালোবাসা রয়েছে এবং যে অন্তর আরও বেশি আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় থাকে।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news