
আকাশজুড়ে কালো মেঘ। মাঝে মাঝেই মেঘের গর্জন। তার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। তবু ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠ ছাড়েননি কেউ। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে মেখেই অপেক্ষা প্রিয় ‘আলমগীর স্যার’-এর বক্তব্য শোনার। রাষ্ট্রপতি হয়ে নিজ জেলায় আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একনজর দেখা এবং তার কথা শোনার অপেক্ষায় মাঠজুড়ে তখন উৎসুক সাধারণ মানুষ।
দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এসে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে তাকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনসহ নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে জেলা সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে ১টা ২৫ মিনিটে পৌর শহরের সেনুয়া কবরস্থানে যান তিনি। সেখানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এরপর শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে দুপুরের খাবার ও কিছু সময় বিশ্রাম শেষে বিকেল তিনটার দিকে বের হন নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
এ সময় আকাশে মেঘ জমে ছিল। শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিন্তু তাতে দমেননি মাঠে অপেক্ষমাণ মানুষ। বৃষ্টির মধ্যেই অনেকে ছাতা মাথায়, আবার কেউ ছাতা ছাড়াই মাঠে অবস্থান নেন। তাদের অপেক্ষা একটাই—রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য শোনা।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে মির্জা ফখরুল শুধু রাষ্ট্রপতি নন, অনেকের কাছে তিনি এখনো পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’। রাষ্ট্রপতি হয়ে নিজের শহরে প্রথমবার আসায় তার সংবর্ধনাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও আবেগ। বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।