বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস, প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ফিজিওথেরাপি সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা একযোগে এই দিবসটি পালন করেন। চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব, ফিজিক্যাল থেরাপিস্টদের ভূমিকা ও অবদান, চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ১৯৫১ সালের এই দিনে ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি (বর্তমান বিশ্ব ফিজিওথেরাপি) গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল থেকে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিবসটি পালন করে আসছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “হৃদরোগ ও স্ট্রোক : প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে শারীরিক কার্যক্রম ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব”।
দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব হলো- সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা তুলে ধরা। বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও শারীরিক অক্ষমতা প্রতিরোধে সহায়তা করা। পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক এবং হৃদরোগের চিকিৎসায় পুনর্বাসনের গুরুত্ব প্রচার করা। এ বছর বিশ্বের ১২১টি দেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে- চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্টিও-আথ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এই রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব অনেক। বলা হয়ে থাকে যে, অনেক রোগের আসল মেডিসিন এই থেরাপি। অনেক সময় সঠিক ফিজিওথেরাপি দেয়া হলে অস্ত্রোপচারও লাগে না। অর্থোপেডিক্স, কার্ডিও পালমোনারি, নিউরোলজি, নিউরো সার্জারি, গাইনোকলজির মতো বহু রোগের ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বতন্ত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর বাত-ব্যথা বা আঘাতজনিত ব্যথার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয় করে পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেন। দীর্ঘ মেয়াদি রোগ, বিশেষ করে বাত-ব্যথা ও পক্ষাঘাতের রোগীদের সমস্যা ওষুধ দিয়ে নিরাময় সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।
মাংসপেশি ও হাড়ের সমস্যা, পোড়া রোগী, জন্মগতভাবে যেসব শিশু প্যারালাইসিস বা সেরিব্রাল পালসি ও মেরুদ-ের সমস্যায় আক্রান্ত বা ঘাড়, হাত, পা বেঁকে যাওয়া ঠিক করতে পারে না, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যা, শল্যচিকিৎসা, বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও পঙ্গু পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই।
পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ব্যয় করছে বিলিয়ন ডলার। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভুগছেন। ব্যথায় আক্রান্ত প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজে অংশ নিতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যথায় আক্রান্তরা ব্যথার সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চিকিৎসা মানেই ওষুধ নয় আর ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ২০১৬ সালে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে ৬৩ হাজার ৬৩২ জনের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশে ১৯৬০ সাল থেকে চিকিৎসাটি শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, অসাড়তাসহ এ ধরনের রোগ নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু চিকিৎসাটি চলছে গুরুত্বহীনভাবে। সরকারি হাসপাতালসমূহে ফিজিওথেরাপিস্ট পদ সৃষ্টি হলেও ব্যাপকভাবে নিয়োগ হচ্ছেমাংসপেশি ও হাড়ের সমস্যা, পোড়া রোগী, জন্মগতভাবে যেসব শিশু প্যারালাইসিস বা সেরিব্রাল পালসি ও মেরুদ-ের সমস্যায় আক্রান্ত বা ঘাড়, হাত, পা বেঁকে যাওয়া ঠিক করতে পারে না, হৃদরোগ ও ফুসফুসের সমস্যা, শল্যচিকিৎসা, বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও পঙ্গু পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই।
পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ব্যয় করছে বিলিয়ন ডলার। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভুগছেন। ব্যথায় আক্রান্ত প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজে অংশ নিতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ব্যথায় আক্রান্তরা ব্যথার সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। চিকিৎসা মানেই ওষুধ নয় আর ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ২০১৬ সালে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে ৬৩ হাজার ৬৩২ জনের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশে ১৯৬০ সাল থেকে চিকিৎসাটি শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, অসাড়তাসহ এ ধরনের রোগ নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু চিকিৎসাটি চলছে গুরুত্বহীনভাবে। সরকারি হাসপাতালসমূহে ফিজিওথেরাপিস্ট পদ সৃষ্টি হলেও ব্যাপকভাবে নিয়োগ হচ্ছেনা, তাই দেশের জনমানুষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পড়াশোনার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পঙ্গু হাসপাতালসহ বেসরকারি ফিজিওথেরাপি কলেজে ব্যবস্থা থাকলেও পাস করার পর সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা কম। ফলে অনেক মেধাবী চলে যাচ্ছেন বিদেশে। সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এর মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস।
বাংলাদেশে জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ নানা ধরনের প্রতিবন্ধিতায় ভুগছেন। জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। বাত-ব্যথা, কোমর, মেরুদ- ও ঘাড়ে ব্যথা, ক্রীড়াঘাত, পক্ষাঘাতগ্রস্ততা (প্যারালাইসিস), মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত (স্ট্রোক) সমস্যায় ভুগছেন। এসব রোগের অন্যতম চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত মানুষ পঙ্গুত্বর শিকার হচ্ছে। তাদেরও ফিজিওথেরাপি জরুরি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম করা না গেলে দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব ৭ দশমিক ৩ শতাংশ অস্টিওআথ্রাইটিস রোগী রয়েছেন। যাঁদের বেশিরভাগ নারী, যারা স্থূলতায় আক্রান্ত বা শারীরিক কার্যক্রমে কম সক্রিয়। অস্টিওআর্থাইটিস হলে হাড়জোড়ে ও মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, চলাফেরায় কষ্ট হয়, এমনকি প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে। এজন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রতি আমাদের আরো মনোযোগী হওয়া দরকার। পাশাপাশি তৃণমূলের মানুষের কাছে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া দরকার।
লেখক : চেয়ারম্যান, এস পি হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা কলেজ অব ফিজিওথেরাপি (ডিসিপিটি)। প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ)।