Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০৬:৪০ অপরাহ্ন

বাড়ছে পদ্মার পানি , ডুবছে সড়ক-নিচু এলাকা ॥ বন্যা-ভাঙনের আতঙ্কে বাঘার চরাঞ্চলের মানুষ

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী :- Padma water level rising, roads and low-lying areas are sinking

পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কা। ইতোমধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও পাকা সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে হাঁটুসমান পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। পানি আরও বাড়লে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এরই মধ্যে পলাশিফতেপুর, দাদপুর, চকরাজাপুর, কালিদাসখালীসহ ইউনিয়নের ১৪ থেকে ১৫টি এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে এসব এলাকার মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চকরাজাপুর-খয়েরহাট সড়কের একটি অংশ ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমেছে। ঝুঁকি নিয়ে সেই পানির মধ্য দিয়েই যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও লাইলি বেগম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত কমতে শুরু না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীভাঙন শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিলে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় বিশুদ্ধ পানির। এর পাশাপাশি খাদ্যসংকট এবং গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাঁদের। পানি বাড়লে অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও তখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভূমিহীন ও খেটে খাওয়া। শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ এবং বর্ষাকালে মাছ ধরে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েক বছরে চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করলে ফসল তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নবনির্মিত রাস্তাঘাটও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন চরাঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পদ্মার পানি আরও বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কায় থাকা মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গবাদিপশু রক্ষায়ও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদারের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news