শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাই আমাদের মূল সম্পদ। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক বিষয়ক প্ল্যানারি সেশনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন করতে হলে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই।
এজন্য আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে গড়ে তুলছি। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কোনো সুযোগ নেই। সারা বিশ্বেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।
আমরাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় এহছানুল হক বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাতেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ দেশের উন্নয়নে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ইংরেজি সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর টিচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের প্রধান কার্লোস ভার্গাস।