Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

রাজশাহীর পদ্মার ভাঙনে ৩ স্কুল - কয়েকটি মসজিদ নদীগর্ভে, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- 20,000 people stranded

পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নদীভাঙন। একের পর এক বাড়িঘর ও স্থাপনা বিলীন হওয়ার পাশাপাশি নদীগর্ভে চলে গেছে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদ । ভাঙনের মুখে বিদ্যালয়গুলোর আসবাব ও শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হলেও বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এতে শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

একই সময়ে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চরে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, এসব চরে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ভাঙনে শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 

বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়। একপর্যায়ে পলাশি ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়।

বিদ্যালয়গুলোর মালামাল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে, তা আগেই সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাঙনের গতি এতটাই বেড়ে যায় যে ভবনগুলো শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।


সকাল এসে দেখি নেই’:-

আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মার ভাঙন বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেছে।

তিনি বলেন, ‘পদ্মার চরের মধ্যে স্কুল ভালো দেখে গেলাম, পরদিন সকাল এসে দেখতে হলো স্কুল নেই। ভাঙন থেকে রক্ষা করতে করতে শেষ পর্যন্ত স্কুলটি স্থানান্তর করেও রক্ষা করা গেল না।’

বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়।

চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।

বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন বহু পরিবার:-

চকরাজাপুর ইউনিয়নের আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহমান জানান, তাঁর এলাকার বিভিন্ন চরে ভাঙনে প্রায় ১০০টি বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। এর সঙ্গে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কয়েকটি মসজিদও নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বাড়ছে। মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে গবাদিপশু নিয়ে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। ১৫টি চরের মানুষের মধ্যেই ভাঙনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা নিয়ে শঙ্কা:-

নদীগর্ভে তিনটি বিদ্যালয় বিলীন হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ভবন না থাকায় কোথায় এবং কীভাবে তাদের পাঠদান চালু করা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

স্থানীয়রা বলছেন, চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছরই নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করেন। কিন্তু একটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার অর্থ শুধু একটি ভবন হারানো নয়; এর সঙ্গে ওই এলাকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। তাই অস্থায়ীভাবে হলেও দ্রুত বিকল্প স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রশাসনের নজরে ভাঙন পরিস্থিতি:-

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, নদীভাঙন এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিদ্যালয়টি শেষ পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পদ্মার পানি ও ভাঙন অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অবশিষ্ট বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও দীর্ঘস্থায়ীভাবে ব্যাহত হতে পারে।






© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news