Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

ডেঙ্গু ঠেকাতে রাজশাহীতে তিন মাসের বিশেষ অভিযান

আবুল কালাম আজাদ , রাজশাহী:- Three-month special campaign in Rajshahi to prevent dengue

বর্ষা শেষের দিকে হলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমেনি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার তিন মাসব্যাপী বিশেষ মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এছাড়া ফগার মেশিনে স্প্রে করার পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন করতে মাঠে নেমেছেন সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

শনিবার ১২ (সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রীনিবাসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ফগার স্প্রে কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। 

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী।

উদ্বোধনের পর নগরীর সোনাদিঘি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে রাজশাহী সিটি করপোরেশনও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

শুধু স্প্রে নয়, প্রয়োজন উৎস ধ্বংস:-

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধন করলেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এডিস মশার লার্ভা যাতে জন্মাতে না পারে, সে জন্য জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করাই গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে চলমান কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতার পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় জমে থাকা পানির বিষয়ে সতর্কতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাঠে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকেরা:-

কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. রেজাউল আলম সরকার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম আঞ্জুমান আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিডি ক্লিনের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচি কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নিয়মিত মশকনিধনের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীর অংশগ্রহণের ওপর। শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, বছরজুড়ে পরিকল্পিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news