বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেছেন, সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। প্রয়োজন হলে ক্লিনিক মালিকরা বেশি ফি নিতে পারেন, তবে তার বিপরীতে রোগীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ক্লিনিকে সার্ভিসের মানের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। দরকার হলে ফি বেশি নেবেন, কিন্তু সেবাটা সর্বোচ্চ ইনশিউর করতে হবে। আপনারা যখন ভালো সার্ভিস দেবেন, মানুষ বেশি টাকা হলেও সেই সার্ভিস নেবে। যখন সার্ভিসের মান কমে যাবে, তখন মানুষ আসবে না।
তিনি বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব নিয়ম ও শর্ত মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও অপারেশন টিম নিশ্চিত করতে হবে। ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক মেডিকেল অফিসার না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
আফরোজা পারভীন বলেন, আমাদের রাজবাড়ীতেও আমরা অভিযোগ পাই ক্লিনিকে মেডিকেল অফিসার থাকে না। কিন্তু ক্লিনিক চালাতে হলে সার্বক্ষণিক মেডিকেল অফিসার রাখতে হবে। পাশাপাশি ক্লিনিক চালাতে গেলে যা যা থাকার দরকার, সেগুলো রাখতে হবে।
অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় জনবল ও টিমের ঘাটতি থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি সম্প্রতি বালিয়াকান্দির এক নারীর ফরিদপুরে সিজার করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীর সিজারের সময় পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল এবং পরে অনুসন্ধানে অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজনীয় টিম পূর্ণাঙ্গ না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ক্লিনিকগুলোতে অপারেশন করতে গেলে একটা টিম লাগে। ওই টিম ঠিকঠাক আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। আপনাদের ক্লিনিক পরিচালনা করতে হলে শর্তাবলী মেনেই করতে হবে।
এ সময় ক্লিনিকের নিরাপত্তা ও অনুমোদনের বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন, ক্লিনিকের সেফটি নিশ্চিত এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেনি, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও বলেন, সকল লাইসেন্স ঠিকঠাক রাখতে হবে। যে নিয়মনীতি রয়েছে, সেগুলো মানতে হবে। পাশাপাশি মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে।
সভায় সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মো. আব্দুল হান্নান, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।