
সৌদি আরব ও ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র শহর মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলাল অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। আজ বুধবার সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, তবে এটি মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
আর সৌদির এ অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে হুথিরা। সশস্ত্র এ গোষ্ঠীর পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ বলেছেন, “মক্কায় হামলার দাবি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা। যা এরআগেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এখন এমন দাবি আর কাউকে ভুল বোঝায় না।”
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এর আগে জানায়, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই হুথিরা মক্কায় একবার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর আবার গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোন নিক্ষেপ করে। যা আঘাত হানার আগেই ভূপাতিত করা হয়। সৌদি জোট এ নিয়ে বলেছে, “ড্রোন হামলার ঘটনা মক্কায় দ্বিতীয়বারের মতো সন্ত্রাসী হামলার অপচেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়।”
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে।
সূত্র : আলজাজিরা