জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এবারের বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কমিশনার জানান, প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে বিবেচনা করছে এবং তা যথাযথভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, কমিশন বাজেট পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আরও কিছু পার্শ্ববর্তী সমন্বয় বা সাইডলাইন ওয়ার্ক দ্রুত সম্পন্ন করবে। স্টাফ লেভেল এবং সাচিবিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করে কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হলেই তা প্রকাশ করা হবে। ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না করলেও সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশন আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করছে, তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচনের উপযুক্ত সময় খুঁজে পাওয়া প্রসঙ্গে কমিশনার বিস্তৃত সময়সূচির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়েই বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় মিললেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রোজা। রোজার ছুটির পরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া এবং ৬ জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আবার কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট শিডিউলের কারণে সব প্রক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। সংবাদমাধ্যমের খবরের প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, আগে যা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। আগামী ১৭ তারিখের সমন্বয় সভার পর সকল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কমিশন বিন্দুমাত্র সরে আসেনি বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত উপাত্তসমূহ পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।