Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০৬:৩৪ অপরাহ্ন

নিয়ামতপুরে ৮ মাসে ২০০ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা

সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: 200 suicide attempts in 8 months

নওগাঁর নিয়ামতপুর  উপজেলায় আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত আট মাসে অন্তত ২০০ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে   চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ২০০ জনের মধ্যে ১৯৪ জনই কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

একই সময়ে আত্মহত্যা করেছেন আরও ২৯ জন।

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র বলছে, নিয়ামতপুর কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে কীটনাশক সহজলভ্য হওয়ায় লোকজনদের মধ্যে কীটনাশক পানের ঘটনা বেশি ঘটছে। 

উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি  থেকে  আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে বিষপান, গলায় ফাঁসসহ বিভিন্ন উপায়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে অন্তত ২০০ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর আট মাসে আত্মহত্যা করেছেন আরও ২৯ জন।

আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়  রয়েছে বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়ে। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজনও রয়েছে। আত্মহত্যা চেষ্টাকারী বেশিরভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছর। 

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, পরমতসহিষ্ণুতার অভাব, সাংসারিক মনোমালিন্য,  মানসিক চাপ, হতাশা, মোবাইল ও ডিজিটাল স্ক্রিনে অতিরিক্ত আসক্তি, পারিবারিক কলহ, অপরিণত প্রেমের সম্পর্ক, বেকারত্ব ও আর্থসামাজিক সংকটের কারণে লোকজন আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১০ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ জন, মার্চ মাসে ২৮ জন, এপ্রিল মাসে ৩১ জন, মে মাসে ২৯ জন, জুন মাসে ৩২, জুলাই মাসে ২৪ ও আগস্ট মাসে ২৯ জনসহ মোট ২০০ ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৯৪ জন কীটনাশক পান করে ও ছয়জন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা হত্যার চেষ্টা করেছেন। 

গত মাসে আত্মহত্যা চেষ্টা করা নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নের একজন কৃষকের (২০) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে  রাগ করে তিনি কীটনাশক পান করেছিলেন। 

একই ইউনিয়নের আরেকজন গৃহবধূর (১৮) চাচা জানান, সাংসারিক মনোমালিন্য হওয়ায়  তাঁর ভাতিজি স্বামীর উপর অভিমান করে কীটনাশক পান করেন। 

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সল নাহিদ বলেন, ‘এখানে ১৯৪টি বিষপানের ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। 

তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ধৈর্য শক্তির অভাব, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ,পারিবারিক মনোমালিন্য, প্রেমঘটিত কারণ, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা,  পারিবারিক নির্যাতনসহ আরও বেশকিছু কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলেমেয়েদের মধ্য এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আত্মহত্যা প্রবণতা প্রতিরোধের ব্যাপারে তিনি বলেন, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ, পরমতসহিষ্ণুতা,  সচেতনতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও পারিবারিক বন্ধন বাড়ানোর মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এব্যাপারে  উঠান বৈঠক, সভা, সেমিনারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. ওবাইদুল হক চৌধুরী বলেন, স্মার্টফোনের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, নৈতিক শিক্ষার অভাব, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতাসহ বিভিন্ন কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা চেষ্টার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

এ প্রবণতা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হবে। পারিবারিক বন্ধন বাড়াতে হবে।  শিক্ষকদের এব্যাপারে শিক্ষার্থীদের  সচেতন করতে হবে। সবার সম্মিলত প্রয়াসে এ প্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, নিয়ামতপুরে উদ্বেগজনক ভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মোটিভেশনাল অনুষ্ঠান আর সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এর প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে। এজন্য সমাজের শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তিদের সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news