
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
ভাঙ্গন পরিস্থিতি বিবেচনা করে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৫টায় ক্ষতিগ্রস্থ পৌর এলাকার কুঠিপাড়া, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তারা ভাঙ্গন কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের ক্ষয়-ক্ষতির খোঁজখবর নেন।
নদী ভাঙ্গনে চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল সরকার বলেন, "নদী যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমার যা কিছু ছিল সব তো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। শেষ সম্বলটুকু শেষ হয়ে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি কোথায় যাবো, তা ভেবে পাচ্ছি না।" তার মতো আরও অনেক পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, "পৌর এলাকার ভাঙ্গন পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত কথা হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
পরিদর্শনকালে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনও স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম ও স্থাপনা।