Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৮ অপরাহ্ন

ভেবেছিলাম বজ্রপাত, কিন্তু দেখি আগুন আর আগুন

অনলাইন ডেস্ক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘হঠাৎ বিকট এক শব্দ শুনতে পাই। ভেবেছিলাম বাইরে হয়তো বজ্রপাত পড়েছে।

সবাই ছোটাছুটি করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু বাইরে এসে দেখি ভিন্ন রূপ-চারদিকে শুধু আগুন আর আগুন।

’সাভারের প্রীতি গ্রুপের গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে এভাবেই আতঙ্কের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কারখানার শ্রমিক মো. শামীম। ঘটনার সময় কারখানার সপ্তম তলায় প্রায় ৩২০ শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করছিলেন।

বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারের মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় অনেক শ্রমিক আহত হন।

প্রায় ১১ বছর ধরে প্রীতি গ্রুপে কাজ করছেন শামীম।

তিনি জানান, ঘটনার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা সপ্তম তলায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রথমে সেটিকে বজ্রপাত মনে হলেও বাইরে বের হওয়ার পর ভয়াবহ আগুন দেখতে পান তারা।

শামীম বলেন, বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অন্ধকারের মধ্যে ফ্লোর থেকে বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে তার অনেক সহকর্মী আহত হন।

কারখানার অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কারখানায় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। অথচ কারখানার বাইরে খোলামেলা পিকআপ ভ্যানে এভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

হতাহতের বিষয়ে শামীম বলেন, ‘শুনেছি ৭ থেকে ৮ জন মারা গেছেন এবং আরও ২৫ জনের মতো আহত হয়েছেন।’ তার দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত গ্যাস সিলিন্ডার উড়ে যায়। সেখানেও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শামীম বলেন, এভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে গার্মেন্টস পরিচালনা শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক আতঙ্কের কারণ। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে প্রীতি গ্রুপের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট দূরে রাস্তার পশ্চিম পাশে রয়েছে তিনতলা বাড়ি ‘খান মঞ্জিল’। ওই বাড়ির বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী আরিফা বেগমও বিস্ফোরণের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

আরিফা বেগম বলেন, ঘটনার সময় তিনি নিজের কক্ষে বসে ছিলেন। হঠাৎ বারান্দার দরজা খুলে যায়। বাইরে তাকিয়ে ভয়াবহ আগুন দেখতে পান। বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো আকাশে উড়তে থাকে।

তার ভাষ্য, আগুনের সূত্রপাত হয় পাশের প্রীতি গ্রুপের গার্মেন্টসে। এর পাশেই রয়েছে ‘এফএনএফ’ নামের আরেকটি গার্মেন্টস। বিস্ফোরণের পর উড়ে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারের অংশ তার বাড়ির তিনতলার ছাদের কিছু অংশ উড়িয়ে দেয়। এতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানালার কাঁচগুলো সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে। ছাদের একাংশ ধসে পড়ায় পানির ট্যাংক ও পাইপলাইন সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। ছাদে থাকা গাছপালাও পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরের আসবাবপত্রও।

নিজে আহত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে আরিফা বেগম বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্বামীকে ফোন করলে দ্রুত নিচে নেমে আসার পরামর্শ দেন। প্রথমে আতঙ্কে ছাদে গেলেও পরে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার সময় উড়ে আসা গ্যাস সিলিন্ডারের একটি অংশ তার পায়ে আঘাত করে। এতে পা কেটে যায়। তীব্র ব্যথার কারণে এখনও হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে তার।

ঘটনার সময় ভবনটিতে ভাড়াটিয়ারাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান আরিফা। তবে তার সন্তান মাদ্রাসায় থাকায় সে নিরাপদে ছিল।

--সংগৃহীত ছবি