Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

বাদীই চেনেন না, তবু হত্যা মামলায় সাংবাদিক!

প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): Even though the plaintiff doesn't know him, the journalist is still in a murder case

হত্যা মামলার আসামি তিনি। অথচ মামলার বাদীই বলছেন—‘আমি তাঁকে চিনি না।’ শুধু তাই নয়, যাঁকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে সেই সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না।নওগাঁর বদলগাছীতে সরকারি অর্পিত (ভিপি) জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই। সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় এক সাংবাদিককে। 

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা একজন সাংবাদিকের নাম হত্যা মামলায় এল কীভাবে? তাঁকে কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা ও জেলা সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের বারাতৈল গ্রামের খোর্দ্দ ভূবন মৌজায় ভিপি জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত মাসুদ রানা (৩৫) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে মারা যান।

মাসুদ রানা বালুভরা ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বদলগাছী থানায় ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাঁর ছোট ভাই রিফাত হোসেন।

মামলার ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে টাইমস টুডে নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি রাসেল রানাকে। রাসেল রানার দাবি, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্বও প্রায় ১৫ কিলোমিটার। বিভিন্ন সময় বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল এমরান এর বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ করায় তাকে হত্যা মামলায় নাম দেওয়া হয়েছে।

তাঁকে কেন মামলায় আসামি করা হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী রিফাত হোসেন বলেন, মামলার ১৫ নম্বর আসামিকে আমি চিনি না।

তবে ঘটনার সময় তাঁর ভাইকে কারা মারধর করেছেন—এ বিষয়ে রিফাত বলেন, আমার সামনেই আমার ভাইকে চারজন মিলে মারছে। তাদের মধ্যে রাজা,জাহাঙ্গীর,কুদ্দুস,ফটিক এরা মারছে। আমি সাংবাদিক রাসেল রানা কে চিনি না। 

তাহলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এমন একজন সাংবাদিকের নাম হত্যা মামলায় কীভাবে এল—জানতে চাইলে রিফাত বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বালুভরার এমরান চেয়ারম্যান ও আমার চাচা ভুট্টু ছিলেন। মামলার তার নাম কে দিল, আমি জানি না। বাদীর এই বক্তব্যই মামলায় সাংবাদিককে আসামি করার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন এবং সাংবাদিক রাসেল রানার দাবি, বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল এমরানের নির্দেশেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এর পেছনে আগের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংবাদিকের বিরোধের বিষয়টিও সামনে আনা হচ্ছে।

তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আল এমরান। তিনি বলেন, ভিপি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারি হয়েছে। উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে মাসুদ হোসেন মারা গেছে। সাংবাদিক রাসেল রানাকে তাঁর নির্দেশে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এমন অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কে কাকে আসামি করেছে, তা আমার জানা নেই। মামলার বাদীর সঙ্গে তিনি থানায় গিয়েছিলেন।এমন বক্তব্যের বিষয়টিও চেয়ারম্যান অস্বীকার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বারাতৈল গ্রামের খোর্দ্দ ভূবন মৌজায় প্রায় ১৪ বিঘা সরকারি অর্পিত জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আসামি পক্ষের কয়েকজন কৃষক ওই জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলেন।

চলতি বছর নিহত মাসুদ রানা, তাঁর বাবা আফজাল হোসেন ও ভাই রিফাত হোসেনের পক্ষ থেকেও ওই জমি লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। তবে চলতি বছর কোনো পক্ষই জমির লিজ পায় নি।পুরোনো চাষাবাদের সূত্রে আসামি পক্ষ জমিতে ফসল আবাদ করে আসছিল। পরে জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে জমিতে থাকা ফসল নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরে ১০ সেপ্টেম্বর সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

মামলার কয়েকজন আসামির বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় রাসেল রানা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবেও চেনেন না বলে জানান।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যা মামলায় একজন সাংবাদিককে কীভাবে আসামি করা হলো—জানতে চাইলে ওসি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। এ বিষয়ে বাদী ভালো বলতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন সাংবাদিক রাসেল রানার বিরুদ্ধে তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে চার্জশিটে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হতে পারে।

এখন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কয়েকটি প্রশ্ন?সংঘর্ষের সময় রাসেল রানা কোথায় ছিলেন, তিনি উপস্থিত না থেকেও তাঁকে মামলায় আসামি করার তথ্য কে দিয়েছেন। তদন্তে সেসব বিষয় উঠে আসে কি না এখন এসবই দেখার বিষয়।



© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news