Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Monday , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

কে এই রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার

আবুল কালাম আজাদ, প্রতিনিধি:- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে ঘিরে রাজশাহীতে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসীর একটি অংশ।

 তাঁদের প্রশ্ন—রাকসুর জিএস হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কতটুকু এবং রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী ছিল?

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত গড়ায়। এ সময় স্টেশনে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা এবং যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠে। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। তদন্ত প্রতিবেদন ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত ঘটনার জন্য রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বকে দায়ী করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসীর একটি অংশ। 

তাঁদের অভিযোগ, রেলওয়ের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আগের ঘটনাগুলো নিয়েও প্রশ্ন:-

রাজশাহী রেলওয়ে অঙ্গনে ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে আরও কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ঘটনায় রেলওয়ে স্টাফ, রেলওয়ে পুলিশ কিংবা আনসার সদস্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরোধ ও হয়রানির অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, কোনো শিক্ষার্থী অন্যায় আচরণ বা হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট রেলকর্মী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নগরবাসীর দাবিগুলো কী:-

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি সামনে এসেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

*রেলওয়ে স্টাফ, রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায় হামলা বা হয়রানির অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে বিভাগীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

*রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।

*ঘটনার সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

*রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি বিবেচনা করা।

*ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আইন অনুযায়ী দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা।

তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের ফলাফল এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কার কী ভূমিকা ছিল, রাষ্ট্রীয় সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং কার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

এদিকে, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দাবিদাররা। তবে পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

--সংগৃহীত ছবি