Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০৮:৪৪ অপরাহ্ন

রাজশাহীর ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে দুই গবেষণা গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার: Publication festival of two research books on history and tradition

একটি বই পাঠককে নিয়ে যায় পাঁচ হাজার বছর আগের ইতিহাসের কাছে, অন্যটি তুলে ধরে বাংলার ইতিহাস চর্চার এক নিবেদিতপ্রাণ পথিকৃৎকে। একটির পাতায় ধরা পড়েছে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের দীর্ঘ ইতিহাস, প্রত্ননিদর্শন ও প্রতিষ্ঠার পেছনের মানুষের কথা; অন্যটিতে উঠে এসেছে ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র জীবন ও ইতিহাসচর্চার বিস্তৃত পরিসর। রাজশাহীতে একই অনুষ্ঠানে মাতৃভূমির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণাধর্মী নতুন দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।


ইতিহাসের এসব উপাদান সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদই যেন প্রকাশনা উৎসবের আলোচনায় বারবার ফিরে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে এ প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. সফিকুলের লেখা বই দুটি প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ। বই দুটি হলো ‘বাংলার গৌরব বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’ এবং ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ’। 


প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. হাসেন আলী। প্রধান আলোচক ছিলেন বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের সাবেক পরিচালক ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন। গেস্ট অব অনার ছিলেন শিমুল গ্রুপের চেয়ারম্যান শিমুল সরকার রনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান ড. গোলাম মাওলা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন- সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত। ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন কুমার শরৎ কুমার রায়ের প্রপৌত্র অরূপ রায় ও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় মহাশয়ের প্রদৌহিত্র ড. অভিজিৎ গৌস্বামী। 


প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা বলেন, ইতিহাস কেবল অতীতের বিবরণ নয়; একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্নঐতিহ্য এবং ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎদের অবদান নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে।


উল্লেখ্য, ‘বাংলার গৌরব বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’ বইটি ৩৪২ পৃষ্ঠার। ৩১টি অধ্যায় ও পরিশিষ্টে সাজানো গবেষণাগ্রন্থটিতে মিউজিয়ামের প্রত্ননিদর্শন, বিভিন্ন গ্যালারির পরিচিতি, প্রতিষ্ঠাতাদের জীবনী এবং প্রতিষ্ঠানটির বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের বর্ণনায়, মিউজিয়ামে রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার বহুমাত্রিক প্রত্ননিদর্শন, যা আবহমান বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা অধ্যায়কে ধারণ করে। এর মধ্যে সিন্ধু সভ্যতার প্রায় তিন শত প্রত্ননিদর্শন রয়েছে। 


অন্যদিকে ৫৫০ পৃষ্ঠার ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ’ বইয়ে ১৬টি অধ্যায় ও পরিশিষ্টে ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র জীবন, গবেষণা ও ইতিহাসচর্চার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার ইতিহাসকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চর্চার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা, পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার খননে উদ্যোগ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কও এতে স্থান পেয়েছে।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news