
হাতে সোনালি রঙের মেডেল, সঙ্গে হ্যান্ডকাফসদৃশ বস্তু—দেখলে মনে হতে পারে, এ যেন পুলিশেরই কোনো অভিযান! পরিচয়ও দেওয়া হলো ‘ডিবি পুলিশ’ হিসেবে। এরপর গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ। কিন্তু ‘ডিবি’ পরিচয়ের সেই অভিযান শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকল ৯৯৯ নম্বরে!
স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় এবার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। যাঁদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছিল, তাঁরাই উল্টো দুই যুবককে আটকে রেখে ফোন করেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর গ্রামে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন বদলগাছী উপজেলার সারোয়ার হোসেন অপু (৩২) ও শামীম হোসেন (৩১)। সারোয়ার হোসেন অপু বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই দুই যুবক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কাদিমপুর গ্রামে যান। তাঁদের কাছে থাকা সোনালি রঙের একটি মেডেল ও হ্যান্ডকাফসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্থানীয়দের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে।
তবে বেশিক্ষণ ‘ডিবি অভিযান’ চালানো যায়নি। কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা দুই যুবককে আটকে ফেলেন। এরপর আর কোনো ‘অভিযান’ নয়—স্থানীয়দের ফোন চলে যায় ৯৯৯ নম্বরে। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।এ ঘটনায় কাদিমপুর গ্রামের জলিল সরদার বাদী হয়ে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে বিভিন্ন সময়ে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই দুই যুবক গ্রামের একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামে লিটন হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজেকে ডিবির ওসি পরিচয় দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথাও জানা গেছে। তিনিও বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন তাঁদের সঙ্গে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামের লিটন হোসেন এবং বদলগাছী ইউনিয়নের চাংলা গ্রামের উজ্জল হোসেনের নাম এসেছে। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভুয়া পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।