Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

রাজশাহীতে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে, তিন বছরে ১০টির অধিক বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- Cases of unidentified bodies being recovered are increasing in Rajshahi

রাজশাহী নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত তিন বছরে একের পর এক অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নদী, পুকুর, ডোবা, সড়কের পাশ, রেললাইন ও নির্জন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধারের পর অনেকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে অন্তত ১০টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের একাধিক ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে এক তরুণীর মরদেহ, তানোরের বিলকুমারী বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ এবং নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

২০২৫ সালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। নগরীর শিরোইল রেল কলোনির পুকুর, বাঘার পদ্মা নদী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়।

২০২৬ সালেও রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। নগরীর ড্রেন, পদ্মা নদীর তীর ও জেলার বিভিন্ন জলাশয় থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু বা মামলা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথম কাজ হলো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা। এ জন্য আশপাশের থানায় নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য খোঁজা, মরদেহের ছবি প্রচার, পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য যাচাই এবং প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু মরদেহ পচে গেলে বা দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকলে পরিচয় শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে নদী ও জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ক্ষেত্রে পরিচয় শনাক্তে সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মরদেহের সঙ্গে পরিচয় শনাক্ত করার মতো কাগজপত্র বা মোবাইল ফোন পাওয়া যায় না। ফলে স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক সময় মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।

অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পরিচয় না মিললে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মরদেহ সংরক্ষণ ও পরে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ ধরনের মরদেহের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে এক জায়গায় সংরক্ষিত না থাকলে পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীতে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের প্রকৃত সংখ্যা জানতে হলে মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, নৌপুলিশ, হাসপাতালের মর্গ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য একত্র করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি অজ্ঞাত মরদেহের ছবি, আঙুলের ছাপ, ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা গেলে পরিচয় শনাক্তের সুযোগ বাড়বে।

২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের অন্তত ১০টি ঘটনা পাওয়া গেলেও এটিকে রাজশাহীর প্রকৃত পরিসংখ্যা আরো বেশি। কারণ সব ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না এবং সংবাদে প্রকাশিত কোনো কোনো মরদেহ পরবর্তী সময়ে শনাক্তও হয়ে থাকতে পারে।

তাই রাজশাহী মহানগর ও জেলার গত তিন বছরের অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের সরকারি পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং শনাক্ত হওয়া ও বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া মরদেহের পৃথক তথ্য সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। 

এতে একদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা দ্রুত তথ্য পেতে পারেন, অন্যদিকে অজ্ঞাত মরদেহের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিস্থিতিও স্পষ্ট হবে।




© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news