Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০২ অক্টোবর ২০২৬
০২:১৫ অপরাহ্ন

দানকৃত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রাবিতে শিবির-আম্মার বাকযুদ্ধ: কৃতিত্বের দাবি বনাম অর্থ আত্মসাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী:- Shibir-Amma war of words at RU over donated ambulance

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের জন্য আসা একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ‘কৃতিত্ব’ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল বাকযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মারাত্মক সব অভিযোগ।


​ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে। এদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রশিবিরের ব্যানারে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে ‘শিবিরের পক্ষ থেকে উপহার’ লেখা ব্যানার টানানো হলে মুহূর্তেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে ক্যাম্পাসে।


​আম্মারের দাবি: "রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব":-


অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের পরপরই রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আম্মারের স্পষ্ট দাবি, এই অ্যাম্বুলেন্সটি মূলত রাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল এবং এটি তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক যোগাযোগের ফসল। কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এটি হস্তান্তর করার কথা ছিল না। শিবিরের ব্যানার ব্যবহারকে ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।


​নিজের দাবির সপক্ষে তথ্য দিয়ে আম্মার জানান, গত ৬ আগস্ট তিনি লতিফা রশিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের স্বামী তথা বিগত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাবির জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসার আবেদনের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট তা মঞ্জুর হয় এবং ২১ আগস্ট রাকসুর অভ্যন্তরীণ গ্রুপেও বিষয়টি জানানো হয়।


​আম্মার এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আমার আগে অন্য কেউ এই অ্যাম্বুলেন্সের জন্য খালিদুজ্জামানের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন একটি ফোনকল বা বার্তার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারলে আমি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।" এছাড়া, বাড়তি অ্যাম্বুলেন্সের অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ লাখ টাকার ‘জরুরি চিকিৎসা তহবিল’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


​শিবিরের পাল্টা অভিযোগ: "টাকা আত্মসাৎ ও পরিচয় প্রতারণা":-


সালাহউদ্দিন আম্মারের এই অভিযোগের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা তোপ দাগেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আহমেদ আহসানউল্লাহ ফারহান। তিনি আম্মারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তোলেন।


​ফারহানের দাবি, আম্মার বিভিন্ন সময়ে নিজেকে শিবিরের নেতা পরিচয় দিয়ে দাতা এস এম খালিদুজ্জামানের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা এনেছেন। এমনকি কিছুদিন আগেও তিনি দুই লাখ টাকা এনেছেন, যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেননি। ফারহান জানান, আম্মারের আর্থিক অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা আঁচ করতে পেরেই দাতা সংস্থা অ্যাম্বুলেন্সটি রাকসুর আম্মারের মাধ্যমে না দিয়ে রাবি ছাত্রশিবিরের হাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।


​তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে খালিদুজ্জামানের অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রহণ করা হয়েছিল।


​শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবার মতো একটি সংবেদনশীল ও মানবিক বিষয়কে ঘিরে ছাত্র সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধি মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় বর্তমানে রাবি ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news