Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

নিজেদের বানানো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক Students paid tribute to language martyrs

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রভাতফেরিতে ‘ইংরেন বয়হাওয়া, মে অক্তে রাংগোয়া ইকুশ না: ফেব্রæয়ারি, ইংকি আত হিরিং ইং’.... অর্থাৎ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.....’ কোল ও বাংলা ভাষায় একুশের গানটি  গেয়ে প্রভাতফেরি, নিজেদের বানানো শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভা ও মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্য দিয়ে বুধবার প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপিত হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত  এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গ্রামবাসী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথিবৃন্দ অংশ নেয়।


দিবসটি উপলক্ষে গত সাত দিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। দূর থেকে মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে এসে মাটির বেদী তৈরি করা হয়। এরপর বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনারের কাঠামো তৈরি করা হয়।  মনের মাধুরী মিশিয়ে শিক্ষার্থীরা বেদীতে আলপনা আঁকে। এছাড়া বিদ্যালয়ের মাটির দেয়ালও লেপে-পুছে ঝকঝকে করে তাতে আলপনা আঁকে তারা। শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার জন্য বিদ্যালয়েই তৈরি করে ফুলের ডালা।

একুশের দিন সকাল হতেই একে একে শিক্ষার্থীরা হাতে হাতে বিভিন্ন ফুল নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হয়। শিক্ষার্থীদের সাথে আসেন অভিভাবকও। সকলে হাতে হাতে ফুল নিয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয় প্রভাতফেরি।  প্রভাতফেরি শেষে শহীদ মিনারে দেয়া শ্রদ্ধাঞ্জলি। শিক্ষার্থীরা সঙ্গে নিয়ে আসা ফুল দেয় শহীদ মিনারে। ফুল দেন অভিভাবক ও অতিথিরাও। এসময় কোল সম্প্রদায়ের নারীরা ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রণাম করেন।


এরপর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাঙালি শিক্ষার্থীরা কোল ভাষায় ও কোল শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষায় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...  ' গানটি গেয়ে শোনায়। শিক্ষার্থীদের সাথে কন্ঠ মেলায় অভিভাবকেরাও।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি কার্তিক টুডু, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজারুদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন,  আইনজীবী ও সমাজসেবী আবু হাসিব, বাবুডাইং আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র দাস,  অভিভাবক রুমালি হাসদা, সফল ফলচাষি মতিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আমিরুল মোমেনিন,  বিনামূল্যে রক্তদানকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল বর্ণের প্রতিষ্ঠাতা রকিবুল হাসান প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর।  


শেষে সকলকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করেন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুলাতানা রাজিয়া।

রুমালি হাসদা তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ ইসকুলটা হওয়ার আগে একুশে ফেব্রুয়ারি কী তা জানতাম না। ইসকুল হওয়ার পর বছর বছর একুশের অনুষ্ঠানে আসিয়া বুঝতে পারিছি একুশ কী জিনিস। একুশ না হোইলে বাংলাদেশ জিততে পারতো না। হামাদের গিদরিকুয়াগালা (শিশুরা) মায়ের ভাষায় একুশের গান গাহিছে, হামিও অরঘেসোথে গাহিছি।   হামারঘে ভাষাতে বাঙালি ছাত্রীরাও গাহিছে, খুব ভালো লাগলো।


নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরমিলা হাসদা বলে, বছরের এ দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা  করে থাকি। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আমরা নিজেরাই শহীদ মিনার বানাই। আলপনা আঁকি। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মাটির দেয়াল লেপেপুছে তাতে আলপনা আঁকি। এক সপ্তাহ ধরে আমরা দলবেধে এ কাজ করি। সকলে একসাথে হাতে হাতে ফুল নিয়ে প্রভাতফেরি করি। শহীদ মিনারে ফুল দিই। মাতৃভাষায় গান গাই। দিনটি আমরা একটি পরবের দিনের মতই উদযাপন করি।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news