Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ০৪ অক্টোবর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

ছাত্র হল-১ এর লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবন অভিমুখে রুয়েট শিক্ষার্থীদের লংমার্চ

রুয়েট প্রতিনিধি: Demand for the elevator of Student Hall-1 to be opened

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবনির্মিত ছাত্র হল-১ এর বহুতল ভবনে দ্রুত লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবন অভিমুখে লংমার্চ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থীর আবাসিক এ হলে দীর্ঘদিন ধরে লিফট চালুর দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।


শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টা নাগাদ শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে লিফট চালুর কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘদিন লিফট চালুর দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত কোনো সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় শিক্ষার্থীদের মাঝে।


এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর হল শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে যান। তবে উপাচার্য তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান না করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ আবেদন গ্রহণ করেন। তিনি হল চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন।


আবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের লিফট সচল করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে বলা হয় নবনির্মিত ১০ তলা হল (ছাত্র হল-১) এ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বসবাস শুরু করলেও লিফট এখনো চালু করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যাতায়াতের জন্য দিনে একাধিকবার হেঁটে নিচে নামা এবং আবার ওপরে উঠা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।


আবেদনে আরও বলা হয়, তীব্র গরম ও ক্লান্তিকর একাডেমিক চাপের পর সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন তলায় ওঠা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে বা দ্রুত নিচে নামানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।


উল্লেখ্য হল সংক্রান্ত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী এবছরের ডিসেম্বরে ছাত্র হল-১ এর কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনা করে প্রশাসন অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করে প্রায় ৮মাস আগে তা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন। ফলে এপ্রিলের ২য় সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীরা হলটিতে বসবাস শুরু করেন। তবে এরপর হলের অন্যান্য সেবা ধারাবাহিক ভাবে চালু হলেও লিফট এখনো চালু হয়নি। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও লিফটের কাজ সম্পন্ন হয়নি হলটিতে।


এদিকে জানা যায়, প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি দুটি ১০তলা ভবন অর্থাৎ ছাত্র হল-১ ও ছাত্র হল-২ এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। ইতিমধ্যেই গত ২০আগস্ট ছাত্র-২ এ দুটি লিফট চালু করা হয়েছে। তবে ছাত্র হল-১ এর লিফট চালু না থাকায় দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।


তাদের এ দাবির বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর ফাহিম রহমান বলেন,"৮ তলায় উঠার কয়েকদিন এর মধ্যে আমার পায়ের পাতায় খুব ব্যাথা হয়, এমন অবস্থায় ডাক্তার দেখালে তিনি পায়ে কোনো রকম প্রেসার দিতে মানা করেন। কিন্তু গত ২-৩ মাস ধরে প্রতিদিন ৩-৪ বার উঠানামা করার কারণে আমি এখনো পায়ের এই সমস্যায় ভুগছি। স্যারদের জানালে উনারা শুধু একই উত্তর দেন যে ঠিকাদার কাজ করে না, কিন্তু মেল হল ২ ও ১ এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একই, তাহলে মেল হল ২ এ লিফট চালু হলেও আমাদের হল এ কেন হলো না? এইটা অবশ্যই রুয়েট প্রশাসন এর চরম ব্যর্থতা ও স্টুডেন্ট এর প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।"


আন্দোলন চলাকালীন দাবির বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড এইচ এম রাসেল। তিনি জানান, নিজে দায়িত্ব নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই হলটিতে লিফট চালুর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি হল সংক্রান্ত অন্যান্য অসুবিধার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান ও সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।


নতুন ভবন হওয়ার পরও লিফট চালু না থাকা ধৈর্য্যের মাত্রাকে ছাড়িয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষের চরমে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য শিক্ষার্থীদের। তাদের ভোগান্তি দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিবে বলে প্রত্যাশা তাদের। দ্রুততম সময়ে লিফট সচল করে দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব ও পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত এখন সময়ের দাবি মনে করেন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মূলত উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেন তারা। দ্রুত সমস্যাটির সমাধানে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন হল শিক্ষার্থীরা।


© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news