দিনাজপুরের হিলিতে মাচায় অসময়ের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়েছেন আতিয়ার রহমান নামের এক কৃষক। প্রথমবার তরমুজ চাষ করে বনে গেছেন লাখপতি। লাভজনক হওয়ায় আরও বড় পরিসরে এই চাষ করার ইচ্ছা তার। এদিকে আতিয়ারের দেখাদেখি গ্রামের অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন তরমুজ চাষে। স্থানীয় কৃষি অফিসও চাষিদের সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হিলির খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রদর্শনী হিসাবে প্রথমবারের মতো ৪০ শতাংশ জমিতে মাচায় তরমুজ চাষ করেন। সবুজ বর্ণের উচ্চতাপমাত্রা ও বৃষ্টি সহনীয় বেঙ্গল টাইগার জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ইতোমধ্যেই গাছগুলোতে ভালো তরমুজ আসছে। পাকতে শুরু করায় বাজারজাতও শুরু করেছেন আতিয়ার। বীজ লাগানোর ৭০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। বিক্রি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। জমি থেকেই পাইকাররা তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
কথা হয় তরমুজ চাষি আতিয়ারের সঙ্গে। তিনি জানান, জমিতে তরমুজের বীজ লাগানো থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত তার খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি তরমুজ ১৬শ টাকা মন দরে বিক্রি করছেন। প্রথম চালানেই বিক্রি করেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর প্রথমবার চাষেই লাখপতি বনে যান আতিয়ার। তার জমিতে এখনো অনেক তরমুজ রয়েছে। তাতে বিক্রি দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। ধানের চাইতে অধিক লাভজনক হওয়ায় আগামীতে বড় পরিসরে চাষাবাদের ইচ্ছা তার। কথা হয় কয়েকজন স্থানীয় যুবকের সঙ্গে। তারা জানান, আতিয়ারের এই তরমুজের বাগানে কাজ করে বেকারত্ব ঘুচেছে অনেক বেকার যুবকের। এদিকে তার দেখাদেখি গ্রামের অনেক কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, মাচায় তরমুজ চাষে কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অসময়ের ফল হওয়ায় কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে। হিলিতে ৩ হেক্টর জমিতে মাচায় এই তরমুজ চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।