
রাতের আঁধারে সীমান্তবর্তী আমবাগানকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা। তবে শেষ পর্যন্ত চালানটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বস্তা ফেলে পালিয়ে যায় এক ব্যক্তি। পরে ওই বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার টাংগন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউসুফপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল টাংগন এলাকার একটি মাদ্রাসার পাশে আমবাগানে অবস্থান নেয়। দীর্ঘ সময় ওত পেতে থাকার পর এক ব্যক্তিকে মাথায় বস্তা নিয়ে আমবাগানের দিকে আসতে দেখা যায়।
বিজিবি সদস্যরা তাকে আটকের জন্য ধাওয়া করলে তিনি বস্তাটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে বস্তাটি তল্লাশি করে ১০০ বোতল ভারতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে জব্দ করা সিরাপের কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি।
বিজিবির ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সীমান্ত এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দ করা সিরাপ গুলো ৭ অক্টোবর সকালে চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বস্তাটি বহনকারী ব্যক্তি কে এবং চালানটির প্রকৃত মালিক বা এর পেছনে কারা রয়েছে?
বিজিবি জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রাতের বেলায় দুর্গম পথ, ফসলি জমি ও বাগান ব্যবহার করে চোরাচালানের চেষ্টা হয়ে থাকে—এমন পরিস্থিতিতে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্বও বাড়ছে। টাংগনের এ ঘটনায় বিজিবির অভিযানে চালানটি জব্দ হলেও বহনকারী ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফলে শুধু চালান জব্দের পাশাপাশি এর উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে সীমান্তে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।