শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে রাজশাহীর মণ্ডপে মণ্ডপে এখন শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। প্রতিমার গায়ে শেষ প্রলেপ দেওয়া ও রংতুলির শেষ ছোঁয়া দিতে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। একই সঙ্গে আলোকসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক আয়োজন শেষ করতে ব্যস্ত মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজশাহী মহানগরী ও নয়টি উপজেলায় মোট ৪৮৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের তুলনায় ১৭টি বেশি; ২০২৫ সালে জেলায় মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৪৭২টি।
সরকারিভাবে ইতোমধ্যে পূজা উদযাপনে বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, মহানগরীর ৮৫টি এবং জেলার নয় উপজেলার ৪০৪টিসহ মোট ৪৮২টি মণ্ডপের জন্য ২৮৯ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রতি মণ্ডপ পাবে ৬০০ কেজি করে চাল। বরাদ্দের চাল সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন আরও সাতটি মণ্ডপের জন্য খাদ্য বরাদ্দের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।।
জেলার উপজেলাভিত্তিক মণ্ডপের পরিসংখ্যানে জানা গেছে—বাগমারায় সর্বোচ্চ ৮৬টি, তানোরে ৫৯টি, পুঠিয়ায় ৫৫টি, বাঘায় ৪৮টি, গোদাগাড়ীতে ৪২টি, চারঘাটে ৪২টি, মোহনপুরে ২৫টি, দুর্গাপুরে ২৪টি এবং পবায় ২৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মহানগর এলাকায় মণ্ডপের সংখ্যা ৮৫টি।
পূজা মণ্ডপগুলোতে কারিগরদের নিপুণ ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। নগরীর কৃষ্ণ মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী কৃষ্ণ জানান, প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ, এখন চলছে মূল রঙের কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মণ্ডপে প্রতিমা প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)-এর মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির (পিপিএম) জানান, মেট্রোপলিটন এলাকার ১০৯টি মণ্ডপসহ সব পূজা স্থানে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও মণ্ডপ কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোতেও ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব। তবে পঞ্চমী থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে বইতে শুরু করবে উৎসবের আমেজ।