আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আফ্রিকান দেশ বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে পুরো আয়োজন যে তার জন্য ছিল তা বলাই বাহুল্য। ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি তারকার এমন বিদায়ই প্রাপ্য বলে আলোচনা এখন মুখে মুখে। তবে বেনিন অভিযোগ তুলেছে, এর আড়ালে ছিল তাদেরকে অপমানের আয়োজন!
বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আচরণে ক্ষুব্ধ বেনিন ফুটবল ফেডারেশন। অভিযোগ উঠেছে, বহুল আলোচিত এই প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে আসা আফ্রিকান দলটির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জার্সি বিনিময়, ছবি তোলা কিংবা আর্থিক সুবিধা দেওয়ার মতো বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে।
মেসির জোড়া অ্যাসিস্ট ও এক গোলে লিওনেল স্কালোনির দল ৩-০ গোলে হারায় বেনিনকে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর আফ্রিকান দেশটিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের কোনো সুযোগই তাদের দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। খ্যাতনামা ফরাসি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনা এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
ম্যচের আয়োজক আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বেনিন দলের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের কথা তুলে ধরে মোলিনা লিখেছেন, ‘বেনিনের প্রতি আর্জেন্টাইন ফেডারেশন এবং খেলোয়াড়দের সম্মান : নেই কোনো বোনাস, আয় থেকে ফেরত আসেনি এক সেন্টও, জার্সি বিনিময় হয়নি, তোলা হয়নি একটি ছবিও এবং আর্জেন্টিনার করিডোরে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল!’
এর আগে মেসির বিদায়ী ম্যাচটি নিয়ে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। ক্রীড়া সাংবাদিক মোলিনাও একই প্রসঙ্গ টানলেন তার লেখায়, ‘যাদের (বেনিন) কেবল সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাদের পিঠে ব্যবসা করতেই সবকিছু করা হলো।’
বেনিনের প্রতি এমন আচরণের অভিযোগ তাদের মাঝে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে। এর আগে বুয়েন্স আয়ার্সে যাতায়াত ও হোটেল ব্যবস্থাপনা নিয়েও আফ্রিকান দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছিল। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দর্শকে পূর্ণ এই প্রদর্শনী ম্যাচ থেকে বেনিন দলকে কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো আয়োজন নিয়ে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর অসন্তোষ।